দক্ষিণ চীন সাগরের তলদেশে বেইজিংয়ের সাবমেরিন ঘাঁটি

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২০, ২১:১৭

মার্কিন ইমেজিং কোম্পানি প্ল্যানেট ল্যাব সম্প্রতি দাবি করেছে, বেইজিং দক্ষিণ চীন সাগরের হাইনান দ্বীপে একটি ভূগর্ভস্থ সাবমেরিন ঘাঁটি ব্যবহার করছে। রেডিও ফ্রি এশিয়া নামে একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, একটি সাবমেরিন ইউলিন নেভাল বেসের বেসমেন্টের দিকে যাচ্ছে। মনে করা হচ্ছে এটি ০৯৩ ধরনের সাবমেরিন। এই সাবমেরিন পারমাণবিক অস্ত্র, টর্পেডো এবং ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা সজ্জিত থাকে। সিএনএন

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে কোম্পানিটি এ ধরনের তথ্য পেয়েছে বলে তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তারা আরো বলেছেন, বিষয়টি এমন দাঁড়িয়েছে যে, যেভাবে একটি গোয়েন্দা মুভিতে যে ধরনের জিনিস উঠে আসে তেমনই জিনিসের অবতারণা করা হয়েছে এখানে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এজন্য এই পোস্টের শিরোনাম রেখেছে , ‘বন্ড, জেমস বন্ড’।  অন্যরা একে জুলস ভার্নের উপন্যাস ‘২০,০০০ লিগস আন্ডার দ্য সি’ থেকে কাল্পনিক নটিলাসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমানে সিঙ্গাপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন লি কুয়েন ইউ স্কুলের পাবলিক পলিসি বিভাগের প্রধান ড্রিউ থম্পসন বলেন, ডুবোজাহাজের গুলি ছোঁড়ার বিষয়টি একটি বিরল ঘটনা। তিনি আরো বলেন, ‘চীনের আন্ডারগ্রাউন্ড ঘাঁটি থাকার ঘটনাটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। এভাবেই বেইজিং সাবমেরিন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ অনেক সামরিক সরঞ্জাম লুকিয়ে রাখে।’ বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে, চীন তার ক্ষেপণাস্ত্র এবং অস্ত্রগুলো বেসমেন্টে লুকিয়ে রাখে। তবে বেসমেন্টে লুকিয়ে থাকা চীনা সাবমেরিনের ছবি প্রথমবারের জন্য সামনে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

থম্পসন বলেন, চীনাদের এ ধরনের চর্চা বহু আগে থেকেই আমরা জেনে এসেছি। কাজেই এ নিয়ে নতুন করে চমক দেওয়ার কিছু নেই। তবে নিরাপত্তাগত ইস্যুর বিবেচনায় বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলকে ভাবিয়ে তুলবে। তিনি বলেন, এটা আর কিছু নয়, এটা তাদের কৌশলগত কাজের একটি সংস্কৃতি। থম্পসন বলেন, এভাবেই চীন সুদীর্ঘ সময় ধরে চুপিসারে এ ধরনের কাজ করে আসছে। মূলত এই ইউলিন ঘাঁটিটি হাইনানের দক্ষিণে এবং হংকং থেকে ৩০০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।