রাজস্ব হারানোর অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর
পীরগঞ্জে করতোয়া নদী খননে উঠে আসা বালু অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ইজরার অপেক্ষায় থাকা এসব বালু কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র ট্রাকে-ভ্যানে করে সরিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগে জানা গেছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দুর্গাপুর ও বিছনা এবং চতরা ইউনিয়নের টোংরাদহসহ বিভিন্ন স্থানে বিগত শুকনো মৌসুমে করতোয়া খনন করে তোলা বালু নদীপাড়ে স্তূপ করে রাখা হয়। ঐ বালু টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি বা ইজারার প্রস্তুতি চলছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ দুর্গাপুর গ্রামে করতোয়া নদীর খননকৃত ঐ বালু বড় বড় ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একই চিত্র চতরা ইউনিয়নের টোংরাদহ গ্রামে। এদিকে, বালুর স্তূপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা দেখা দিলে উপজেলা প্রশাসন ৮ এপ্রিল বিছনা ও দক্ষিণ দুর্পাপুর গ্রামে নদীটির খননকৃত দেড় কিলোমিটার এলাকায় বালু উত্তোলনসহ খনন না করার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে। এ ব্যাপারে টুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, আমি বালু উত্তোলনে চলমান নৈরাজ্য বন্ধে চেষ্টা করেছিলাম। এ নিয়ে রক্তক্ষয়ী ঘটনাও ঘটেছে। প্রশাসন নজরদারি বাড়ালে এ নৈরাজ্য রোধ করা সম্ভব। পাউবোর এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, করতোয়া নদী খননে বিপুল পরিমাণ বালু উঠে এসেছে। এসব বালুর বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। টেন্ডারের মাধ্যমে এসব বালু বিক্রি করলে সরকার ঐ টাকা রাজস্ব হিসেবে পেত। পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাউল হোসেন বলেন, নদী পাড়ে থাকা বালু রক্ষায় সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে দুই বার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার জন্য পাঠিয়েছি। কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদি হাসান জানান, অবৈধভাবে বালু সরানোর বিষয়টি অবগত করে একাধিকবার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতা চেয়েছি। তারা চেষ্টাও করে যাচ্ছেন।
