সুজানগর (পাবনা) সংবাদদাতা
সুজানগরের গাজনার বিলের পার্শ্ববর্তী রানীনগর ইউনিয়নের বন্যাকবলিত বস্তাল গ্রামবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। প্রতি বছর বন্যার পানি ঐ গ্রামে আসামাত্র গ্রামের সকল কাঁচাপাকা রাস্তা ৮/১০ ফুট পানির নিচে ডুবে যায়। বর্ষা মৌসুমে মনে হয় পুরো গ্রাম পানির ওপর ভাসছে। রানীনগর ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুল আলম পিযুষ বলেন, ৩০০/৪০০ পরিবার নিয়ে গড়ে ওঠা বস্তাল গ্রামটি গাজনার বিলের একদম কাছে অর্থাত্ অত্যন্ত নিচু ভূমিতে অবস্থিত। সে কারণে বর্ষার পানি আসলেই গ্রামের প্রতিটি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এ সময় গ্রামের রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় প্রতিটি মানুষ নৌকায় যাতায়াত করে। গ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, বর্ষা মৌসুমে আমাদের হাটবাজারে যাওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সব কাজ নৌকাযোগেই সম্পন্ন করতে হয়। গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও নৌকাযোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। তবে নৌকাযোগে চলাফেরা করায় ঝুঁকিও রয়েছে। একই গ্রামের আব্দুল আলীম বলেন, বন্যার পানিতে তাদের গবাদি পশু নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বন্যার কারণে গবাদি পশু বাড়ির বাইরে রাখা যায় না। সে কারণে রাত-দিন বসতঘরের পাশে রেখেই লালন-পালন করতে হয়। এতে তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাছাড়া বাড়ির চারপাশে বন্যার পানি থাকায় তাদের মধ্যে সাপ আতঙ্কও কাজ করে। ইতিপূর্বে বর্ষা মৌসুমে বিষধর সাপের কামড়ে ঐ গ্রামের একাধিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলেও তিনি জানান।
পাবনা-২ আসনের এমপি আহমেদ ফিরোজ কবির বলেন, বন্যাকবলিত বস্তাল গ্রাম পরিদর্শন করে ত্রাণসহায়তা দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীর চাহিদা অনুযায়ী আরো যা যা সহায়তা প্রয়োজন সবই দেওয়া হবে।
