জান-ই-আলম
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে পেস বোলিং অলরাউন্ডারের অভাবটা পূরণ করেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ইনজুরি কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ হোম সিরিজে খেলেছেন তিনি। এমন একজন অলরাউন্ডারের হাহাকার রয়েছে বাংলাদেশের টেস্ট দলেও। সাদা পোশাকে পেস আক্রমণকে শক্তিশালী করতে দুই জন বিশেষজ্ঞ পেসারের পাশাপাশি একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার আবশ্যক। অনেক সময় সৌম্য সরকারকে দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট।
ফিট থাকায় এবার টেস্টের ভাবনায় ভালোভাবেই থাকছেন সাইফউদ্দিন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজেই এই তরুণের অভিষেক হয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। অতীতে কয়েকবারই হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর কণ্ঠেও ছিল সাইফউদ্দিনকে পাওয়ার আকুতি। আর সবকিছু ঠিক থাকলে শ্রীলঙ্কাগামী বিমানে চড়বেন ২৩ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার।
শ্রীলঙ্কা আনুষ্ঠানিকভাবে সফরসূচি চূড়ান্ত না করলেও বাংলাদেশের সফরটা প্রায় দুই মাসের। তিন টেস্টের সঙ্গে থাকছে তিন-চারটা প্রস্তুতি ম্যাচ। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে চার্টার্ড বিমানে উড়াল দিবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের তিন টেস্টের প্রথম দুটি হতে পারে ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে। তৃতীয় ও শেষ টেস্টটি হবে কলম্বোয়।
ইতিমধ্যে নির্বাচকরা জানিয়েছেন, স্কোয়াড হবে ২০-২২ জনের। লম্বা সফর, বড় বিরতির পর খেলা বলে ইনজুরির ঝুঁকিও থাকবে। তিন টেস্ট বলেই স্কোয়াডে অন্তত ছয় পেসার থাকবেন। গতকাল জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন বলেছেন, ছয় জন পেসার থাকবে দলে।
পেস আক্রমণের বিবেচনায় সাইফউদ্দিনের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে নির্বাচকদের। এই পেস বোলিং অলরাউন্ডারের অন্তর্ভুক্তি দলে ভারসাম্য আনবে। গতকাল প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘আমরা তো অলরাউন্ডার চাইছি। ও অলরাউন্ডার। টেস্টে তো অলরাউন্ডারও দরকার।’
বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ২২ ওয়ানডে ও ১৫ টি-২০ খেলেছেন সাইফউদ্দিন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৪ ম্যাচে ৬০ উইকেট আছে তার ঝুলিতে। ব্যাট হাতেও আছে একটি সেঞ্চুরি, ৯টি হাফ সেঞ্চুরি। নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে পারলে ফেনীর এই তরুণ লাল বলের ক্রিকেটেও বাংলাদেশ দলের জন্য বড় সম্পদ হবেন। তবে তার ফিটনেস অবশ্যই সেখানে বড় ভূমিকা রাখবে।
টেস্ট দলের নিয়মিত পেসার হিসেবে আবু জায়েদ রাহী, এবাদত হোসেন থাকবেন লঙ্কা সফরে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৬ জনের দলে থাকায় মুস্তাফিজুর রহমানও যাবেন শ্রীলঙ্কায়। একই ভাবে সুযোগ পেতে পারেন দ্রুত গতির পেসার তাসকিন আহমেদ। পাকিস্তান সফরের দলে থাকা আল-আমিন হোসেন, রুবেল হোসেনদের সঙ্গে শফিউল ইসলামও বিবেচনায় থাকবেন। সব মিলিয়ে পেসারদের মধ্যে একটা ভালো লড়াই হতে পারে। কারণ আরেক পেসার খালেদ আহমেদও ফিট হয়ে গেছেন।
