মানিকগঞ্জে গ্যাসের তীব্র সংকট, ক্ষুব্ধ গ্রাহক

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২০, ২১:৫৮

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

গত দুই-তিন মাস মানিকগঞ্জে গ্যাসের সংকট তীর্ব আকার ধারণ করেছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘণ্টাখানেক সময়ও ঠিক মতো গ্যাস পাওয়া যায় না। সামান্য সময় গ্যাস পাওয়া গেলেও থাকে না পর্যাপ্ত চাপ। ফলে রান্না করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন গৃহিণীরা। তবে মাস শেষে ঠিকই গুনতে হয় বিল। অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে বিল দিতে অনীহা গ্রাহকদের। বিল না পেয়ে কর্তৃপক্ষ বকেয়ার খাতায় নাম লিপিবদ্ধ করছেন। এ নিয়ে জেলায় গ্যাস ব্যবহারকারী সবার মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় গ্যাস অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় আবাসিক সংযোগের সংখ্যা ১২ হাজারের অধিক। এর মধ্যে বাণিজ্যিক সংযোগ ৪০টি, শিল্পনগরী সংযোগ ৪০টি, ক্যাপটিভ (জেনারেটর) সংযোগ ৩০টি এবং ১৮টি সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সংযোগ বিদ্যমান। গ্যাসের যেখানে ১১৫ পিএসআই (চাপ) থাকার কথা সেখানে রয়েছে ৯০। শিল্প, বাণিজ্য ও আবাসিক সেক্টরে গ্যাস সংযোগ বাবদ প্রায় ২০ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। গ্যাসের উন্নতি না করতে পারলে বকেয়ার পরিমাণ আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার চারতলা বাড়ির মালিক আব্দুর রহিম বলেন, চারতলা বাসায় ছয়টি ইউনিট। এক বছর যাবত্ তার বাসার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। তিনিও নতুন করে গ্যাস কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হননি। বকেয়া জমেছিল প্রায় লাখ টাকা। গ্যাস থাকত না বলে ভাড়াটিয়ারা লাইনের গ্যাসবাবদ মাসিক টাকা দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করতো। তিনিও ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে গ্যাসের জন্য টাকা নেননি। বকেয়া জমেছিল অনেক টাকা। তিতাস গ্যাসের লোকজন এসে লাইন কেটে দেয়। লাইনের গ্যাসের এই দুরবস্থার কারণে ভাড়াটিয়ারা এখন সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে।

আমেনা নামের এক গ্রাহক বলেন, অনেক টাকা খরচ করে গ্যাস নিয়েছি। এখন যে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করব তাও করতে পারছি না। এদিকে গ্যাস থাকে না ঠিকমত, অযথাই বিল দিতে হয়। লাইন কেটে দেওয়ার কথা ভাবছি। পরে যদি কখনো প্রয়োজন পড়ে তখন যদি আবার গ্যাস সংযোগ না পান, আবার যদি টাকা দিতে হয়—এমন ভয় কাজ করছে এই গৃহিণীর।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস মানিকগঞ্জের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. আতিকুল হক সিদ্দিকী বলেন, জাতীয়ভাবে গ্যাসের সংকট থাকায় গ্রাহকদের সেবা দিতে বিলম্ব হচ্ছে। এরই মধ্যে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, অতিদ্রুত মানিকগঞ্জে গ্যাস সমস্যার সমাধান হবে।