খাদ্যসংকট শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
নগরের নিম্ন আয়ের মানুষদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ জানিয়ে বক্তারা বলেছেন, শহরের বস্তিবাসী মানুষদের জন্য গ্রামের মানুষের ন্যায় প্রচুর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করতে হবে। করোনায় শহরের নিম্ন আয়ের গৃহকর্মীদের জন্য বিশেষ খাদ্য সহযোগিতা ও রেশনিং কার্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। গতকাল শনিবার সকালে ‘করোনা দুর্যোগ ও নগরে নিম্ন আয়ের মানুষদের খাদ্য সংকট’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওর (কাপ) এবং বারসিক যৌথ ভাগে অনলাইনে এই সংলাপের আয়োজন করে। পবার চেয়ারপারসন আবু নাসের খান বলেন, করোনায় এ দেশে নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত—এই তিন শ্রেণিকেই সংকটে ফেলেছে। সবার আগে দরকার সরকারের একটা ফ্রেকওয়ার্ক দাঁড় করানো, যার মাধ্যমে এই মানুষদের পাশে নিয়মতান্ত্রিকভাবে দাঁড়ানো সম্ভব হবে। বারসিক-এর পরিচালক পাভেল পার্থ বলেন, করোনা মহামারি মানুষ চোখে দেখতে না পারলেও তার প্রভাবটা খুব ভাল করেই চোখে দেখা যাচ্ছে। সরকার বস্তিবাসীদের নাগরিকই মনে করেন না। সবার আগে দরকার বস্তিবাসীদের মানুষের মর্যাদা দিয়ে দেখা, আর বণ্টন ব্যবস্থা ঠিক করা।
সংলাপে বস্তিবাসী নেত্রী হোসনে আরা বেগম বলেন, করোনাকালে ঢাকার বস্তিবাসীরা সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে। লকডাউনের শুরুতেই তাদের কাজ থেকে বের করে দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি একবারের জন্যও ভাবেনি কেউ। বাপার যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মিহির বিশ্বাস বলেন, বস্তিবাসীদের বাড়ি ভাড়া না থাকলে বের করে দেওয়া হয়েছে কিন্তু পেটে যাদের খাবার নেই তাদের খোঁজ কেউ নেয়নি। তিনি আরো বলেন, গ্রাম শহরের দরিদ্রদের মধ্যে দারিদ্র্য আরো বেড়েছে। সংলাপে সরকারের কাছে সুপারিশ জানিয়ে বলা হয়, করোনায় কর্মহীন নিম্ন আয়ের বস্তিবাসী ও পথবাসী মানুষ, বিশেষ করে গৃহকর্মীদের জন্য আয়বর্ধনমূলক কাজের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। বস্তিতে ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তোলার জন্য সব ধরনের প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা করতে হবে। পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে ও পরিবেশ বার্তার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংলাপে আলোচনা করেন সমাজসেবা কর্মকর্তা কে এম শহীদুজ্জামান, পবার সম্পাদক মেসবাহ সুমন প্রমুখ। সংলাপে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বারসিকের সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
