রাজশাহীতে ড্রেনে টাকা!

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২০, ২২:০৪

আনিসুজ্জামান, রাজশাহী

রাজশাহী রেলওয়ে অফিসার্স মেস ভবনের সামনে অনেক মানুষ। সবার চোখ ড্রেনের দিকে। ভিড় ঠেলে সামনে গিয়ে দেখা যায়, কিছু মানুষ ড্রেনের মধ্যে কী যেন খুঁজছেন। কেউ একজন পেয়েও গেলেন প্রত্যাশিত বস্তুটি। তার হাতে ৫০০ টাকার একটি নোট। কি আশ্চর্য, ড্রেনে ভাসছে টাকা!

মুহূর্তের মধ্যেই ড্রেনে টাকা ভাসার খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে মানুষের সমাগম বেড়ে যায়। যারা এতোক্ষণ ড্রেনে টাকার কথা শুনে দাঁড়িয়েছিলেন, তারাও নেমে পড়েন টাকা কুড়াতে। কেউ দুই-একটি নোট পান, আবার কেউ চেষ্টা চালিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, ড্রেনে ১ হাজার, ৫০০, ১০০, ২০, ১০ এবং ৫ টাকার নোট ভাসছিল। টাকা ভাসতে দেখে নিম্নআয়ের অনেকেই ড্রেনে নেমে পড়েন। স্থানীয় ভাঙারি ব্যবসায়ী টুলু জানান, টাকাগুলো ড্রেন দিয়ে অফিসার্স মেসের পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে চলে যাচ্ছিল। অনেকেই মনে করছেন, এগুলো দুর্নীতির টাকা। ধরা পড়ার ভয়ে ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ জানান, খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি অনুসন্ধান করে জানা যায়, টাকাগুলো রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের। ঐ টাকা পুরোনো কাগজপত্রের ভাঁজের ভেতর ছিল। নগরীর শিরোইল এলাকায় সড়ক পরিবহন গ্রুপের কার্যালয় থেকে বেখেয়ালবশত কাগজের সঙ্গে টাকাগুলোও ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে খবর ছড়িয়ে পড়ে, এগুলো দুর্নীতি করে জমানো টাকা। ভয়ে ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ খবর শুনে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও ড্রেনের কাছে ছুটে যান। পরে তারা টাকার রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হন।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো বলেন, আমরা খুবই বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে গেছি। ভাবতেই পারিনি পুরোনো কাগজের ভেতর টাকা থাকতে পারে। তবে সব মিলিয়ে ২-৩ হাজার টাকা থাকতে পারে। কিন্তু গুজব ছড়িয়েছে লাখ লাখ টাকা ভাসছে ড্রেনে।