খালাস হওয়া ১৫ পণ্যচালান নিয়ে সন্দেহ রাজস্ব বিভাগের

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২০, ২২:১৮

ব্যাংকের নথিপত্রে গরমিল, ঠিকানা অনুযায়ী

প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি

দুই আমদানিকারকের ব্যাংক হিসাব জব্দ

রিয়াদ হোসেন

মোংলা বন্দরে দুই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকৃত চার কনটেইনার নিষিদ্ধ পোস্তদানা (এক ধরনের মাদকদ্রব্য) সম্প্রতি আটক করেছে শুল্ক বিভাগ। আয়েশা ট্রেডার্স ও তাজ ট্রেডার্স নামে ঐ দুই আমদানিকারক এর আগে টেনিস বল ও পার্টি স্প্রে ঘোষণায় ১৫টি পণ্যচালান খালাস করে নিয়ে গেছে। তবে সম্প্রতি তাদের মিথ্যা ঘোষণার পণ্য আটকের পর সন্দেহ বেড়েছে রাজস্ব বিভাগের। সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতাধীন ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগ খালাসকৃত পণ্যচালানে জালিয়াতির প্রাথমিক কিছু তথ্য উদ্ঘাটন করেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করেছে। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যাংকের নথিপত্র যাচাই করে আমদানির তথ্যে ব্যাপক গরমিল পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে রাজস্ব বিভাগের কাছে থাকা ঠিকানা অনুযায়ী পুরান ঢাকার চকবাজারে প্রতিষ্ঠান দুটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। গত ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে এসব চালান মোংলা বন্দর থেকে খালাস হয়। এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান দুটির আমদানি-রপ্তানিসহ ব্যবসায়িক কার্যক্রমও বন্ধ (বিন লক) করে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানান, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান দুটি টেনিল বল ও পার্টি স্প্রে আমদানির ঘোষণায় আলোচ্য ১৫টি পণ্য চালান ছাড় করিয়ে নিয়েছে। কিন্তু টেনিস বলের আড়ালে অন্য কোনো পণ্য আমদানি করে বড় ধরনের শুল্ক ও ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ করে অর্থ পাচারের অপরাধ করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান দুটির বেশ কিছু অনিয়ম আমাদের হাতে এসেছে। বিস্তারিত অনুসন্ধান শেষ হলে বড় ধরনের অনিয়ম বের হতে পারে বলে মনে করছি। এই সুযোগে ব্যাংক থেকে যাতে টাকা সরিয়ে নিতে না পারে এবং আমদানির রপ্তানির আড়ালে ফের  অপরাধ করতে না পারে, সেজন্য তাদের ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসা আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, ১৫টি সন্দেহজনক পণ্য চালান কীভাবে খালাস করে নিল আমদানিকারকরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুল্ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যোগসাজস কিংবা অদক্ষতায় এটি ঘটে থাকতে পারে। এর আগেও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় বহু পণ্যচালান খালাস হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, শুল্ক বিভাগের একশ্রেণির কর্মকর্তার যোগসাজসে এভাবে পণ্যচালান খালাস হয়ে যাচ্ছে বন্দর থেকে।

ভ্যাট নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ডিজি ড. মইনুল খান ইত্তেফাককে বলেন, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান দুটির আমদানির তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে নেওয়ার পর ব্যাপক গরমিল পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠান দুটি যথাযথভাবে ভ্যাট রিটার্ন দেয়নি। স্থানীয় ভ্যাট অফিসেও নানা ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়েছে।

এতে ধারণা করছি, অতীতেও তারা একইভাবে ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানি করে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। পুরো অনুসন্ধান শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।