প্রকৃত নাম ‘রাম কেশব দাস’। জাতীয় পরিচয়পত্রে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি)। অথচ তিনি সাগর ঘোষ কেশব নামে কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির এক তরুণ আইনজীবীর সনদ দাখিল করে নিজের নাম-পরিচয় গোপন রেখে গত দুই বছর ধরে কুমিল্লা ও ঢাকায় আইনপেশায় রীতিমতো দাপিয়ে বেড়ান। তার দুটি ভিজিটিং কার্ডে রয়েছে এলএলবি (অনার্স), এলএলএম ও সুপ্রিম কোর্টসহ চারটি চেম্বারের ঠিকানা। ধর্ষণের একটি মামলার সূত্র ধরে তার প্রতারণার বিষয়টি সিআইডির নজরে আসায় গত এক মাস ধরে ঐ ভুয়া আইনজীবী উধাও হয়ে গেছেন। ফেসবুকেও এ খবর ভাইরাল হয়ে পড়ে। তাকে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সাধারণ আইনজীবীরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাগর ঘোষ কেশব পরিচয়ে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগ দেন ঐ প্রতারক। তার সদস্য নং-১৩০২। গত বছরের ৬ নভেম্বর আসামি পক্ষের যোগসাজশে ধর্ষণের একটি মামলায় কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত-১ এ ভুয়া বাদী সাজিয়ে অন্য এক আইনজীবীর নাম ব্যবহার করে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন ঐ ভুয়া আইনজীবী। এতে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে যায়। পরে বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নূর মোহাম্মদ বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতের বিচারক এম এ আউয়াল বিষয়টি তদন্ত করে ১৫ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় কথিত আইনজীবী সাগর ঘোষ কেশব আদালতে ৫০ টাকার স্ট্যাম্পে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এদিকে আদালতের নির্দেশে তদন্ত চালিয়ে যায় সিআইডি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা সিআইডি পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, ‘তদন্তে তার দুটি ঠিকানা ভুয়া পাওয়া যায়। প্রতারক রাম কেশব দাস কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার দাসপাড়া গ্রামের অনিল চন্দ্র দাস ও সন্ধ্যা রানী দাসের ছেলে। তদন্তের বিষয়টি টের পেয়ে চেম্বার ও ভাড়াবাসা ছেড়ে পালিয়েছেন ভুয়া ঐ আইনজীবী।’ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু জানান, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের আরো সতর্ক থাকতে হবে।’ কিশোরগঞ্জের প্রকৃত আইনজীবী সাগর ঘোষ জানান, ‘একটি মামলার তদন্তে যাচাইকালে আমার নাম ব্যবহারের বিষয়টি জানতে পেরেছি। এটা ইলিগ্যাল (অবৈধ) কাজ হয়েছে।’ কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির তত্কালীন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘এ ঘটনায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমারও দায় আছে। কিন্তু বিচারালয়ের এক জন আইনজীবী পরিচয়ে এমন কাজ কেউ করতে পারে—আমরা তা ভাবিনি।’
