রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ভাস্কর্যের জন্য আলোচিত ভাস্কর মৃণাল হক আর নেই। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে গুলশানের বাসায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। তার সহযোগী গ্রাফিক্স ডিজাইনার মো. আলমগীর জানান, মৃণাল হকের ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগ ছিল। রাতে তার সুগার লেভেল কমে গিয়েছিল, পাশাপাশি অক্সিজেন মাত্রাও কমে গিয়েছিল। মৃণাল হকের বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। গতকাল শনিবার গুলশান আজাদ মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
মতিঝিলের ‘বলাকা’র ভাস্কর মৃণাল হক সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিলেন ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের লেডি জাস্টিসের আদলে গড়া ভাস্কর্যের জন্য। ধর্মীয় সংগঠনগুলোর বিরোধিতার কারণে ঐ ভাস্কর্যটি সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের ভেতরে এটি স্থাপন করা হয়। এর আগে ২০০৮ সালে ইসলামী সংগঠনগুলোর দাবির মুখে বিমানবন্দরের সামনে থাকা মৃণাল হকের ‘লালন’ ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেয় সরকার। সেই সময় রাজধানীতে মৃণাল হকের ত্রুটিপূর্ণ আরো কয়েকটি ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি।
মৃণাল হকের অনেক ভাস্কর্য রয়েছে ঢাকা শহরে। যদিও সেসব কাজের ত্রুটি নিয়ে নগরবিদদের সমালোচনা রয়েছে, রয়েছে ক্ষোভ। এমনকি দেশে আরো অনেক স্বনামধন্য ভাস্কর থাকতে রাজধানীতে এক জন ভাস্করের এত কাজ নিয়েও রয়েছে সমালোচনা। ঢাকায় তার ভাস্কর্য রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ‘রত্নদ্বীপ’, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে ‘রাজসিক’, পরীবাগ মোড়ে ‘জননী ও গর্বিত বর্ণমালা’, ইস্কাটনে ‘কোতোয়াল’, সাতরাস্তায় ‘বর্ষারাণী’ ও নৌ সদর দপ্তরের সামনে ‘অতলান্তিকে বসতি’। এছাড়া সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে ও বঙ্গবাজারেও তার ভাস্কর্য রয়েছে।
২০০৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে নির্মিত গোল্ডেন জুবিলি টাওয়ার নির্মাণ করেন তিনি। মাদাম তুসোর আদলে বিখ্যাত সব ব্যক্তির ভাস্কর্য বানিয়ে গুলশানে ‘সেলিব্রেটি গ্যালারি’ তৈরি করেছিলেন শিল্পী মৃণাল হক? তবে শাহরুখ খান, লিওনেল মেসিসহ অনেকের চেহারার ‘বিকৃতি’ নিয়ে সমালোচনার মুখে সেগুলো নতুন করে নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন তিনি।
মৃণাল হকের জন্ম রাজশাহীতে। ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। ১৯৮৪ সালে তিনি মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। মৃণাল হক ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং সেখানে ভাস্কর্যের কাজ শুরু করেন। ২০০২ সালে তিনি দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
জেপির শোক প্রকাশ : ভাস্কর মৃণাল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম। গতকাল এক বিবৃতিতে তারা বলেন, মৃণাল হকের মৃত্যুতে দেশ একজন প্রতিভাবান ভাস্কর্য শিল্পীকে হারাল। নেতৃদ্বয় মরহুম শিল্পীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।
