চা-বাগান ও জঙ্গল কেটে বাঘ ধরা অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা!

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২০, ২৩:০০

পঞ্চগড়ে চা-বাগানসহ জঙ্গল কাটা শেষ হয়েছে। সেখানে বাঘের কোনো অস্তিত্ব না থাকায় বাঘ ধরা অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফ হোসেন বাঘ ধরা অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেন। এসময় বন বিভাগের কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দুটি বাচ্চাসহ একটি চিতা বাঘ ঐ এলাকার চা-বাগান ও জঙ্গলে লুকিয়ে আছে। বাঘ রয়েছে স্থানীদের এমন আতঙ্কে বাঘ ধরতে অভিযান শুরু করে বন বিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসন। ৫০ জনের বেশি শ্রমিক দিয়ে কাটা হয় জঙ্গল, পরিষ্কার করা হয় পরিত্যক্ত চা-বাগান। শুক্রবার থেকে ঐ চা-বাগান ও জঙ্গল কাটা শুরু হয়। শনিবার বিকালে কাটা শেষ হলেও বাঘের দেখা মেলেনি। উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগসহ স্থানীয়দের ধারণা, মানুষের কোলাহলের কারণে বাঘগুলো হয়তো রাতের আঁধারে চাওয়াই নদী পেরিয়ে ভারতে ফিরে গেছে অথবা অন্যত্র সরে গেছে। অভিযান সমাপ্তি ঘোষণা করলেও বাঘ কোথায় পালালো অন্যত্র সরে গেল কি না, আবার ফিরে আসবে কি না, এমন আতঙ্ক থেকেই গেল।

গত বুধবার গরু বাঘে হত্যার খবরে জেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। সন্ধ্যার পর ঘরে থাকা এবং পরিত্যক্ত চা-বাগানটির আশপাশে না আসতে মাইকিং করে অনুরোধ জানায় প্রশাসন। এরপর বৃহস্পতিবার দিনাজপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অধীনে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কের ভেটেরেনারি সার্জন হাতেম সাজ্জাদ মো. জহুর আমীন এবং ওয়ারল্যাস স্কাউট আতিকুল ইসলাম প্রথমে পুরো বাগানে তল্লাশি করে।              এরপর তাদের উপস্থিতিতে বাগান কাটা শুরু হয়। শুক্রবার বিকালে ভেটেরেনারি সার্জন হাতেম সাজ্জাদ জানায়, আসলে যে পায়ের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল সেগুলো বাঘের নাও হতে পারে। আর উত্সুক জনতার উপস্থিতি টের পেয়ে বাঘ তার স্থান পরিবর্তন করতে পারে। তবে আমরা এখনো বাঘের কোনো সন্ধান পাইনি।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, বৃহস্পিতবার সকাল থেকেই আমরা শ্রমিক লাগিয়ে পরিত্যক্ত চা-বাগানের চা-গাছ কাটার কাজ শুরু করি। শনিবার শ্রমিকের সংখ্যা বাড়িয়ে সকাল থেকে আবারও চা-গাছ কাটার কাজ শুরু করা হয়। স্থানীয়রাও দা দিয়ে চা-গাছ কেটে বাড়ি নিয়ে যায়। সন্ধ্যার আগেই বাগানের গাছ কাটা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এর মধ্যে বাঘের কোনো দেখা পাওয়া যায়নি।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফ হোসেন বলেন, গ্রামবাসীর সন্দেহের পর আমরা শুক্রবার সকাল থেকেই পরিত্যক্ত চা-বাগানের গাছ কাটার অনুমতি দেই। শনিবার বিকালের মধ্যে বাগানের সব গাছ কাটা শেষ হয়। গাছ কাটা শেষ করার পর বন বিভাগের কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা, পুলিশ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার মানুষজন উপস্থিত হয়ে সেখানে বাঘের অস্তিত্ব পাইনি। এ কারণে বাঘ খোঁজার অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দেই।