বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মূল্যবোধ অনুসরণের মাধ্যমে সকলের জন্য সামাজিক অধিকার নিশ্চিত সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় থাকা বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকবৃন্দ। শনিবার ঢাকায় আয়োজিত আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির এক আলোচনা সভায় এ বিষয়ে কথা বলেন কূটনীতিকবৃন্দ। ঢাকায় নিযুক্ত ৪০ দেশের কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে এ সময় ১৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র যন্ত্র ব্যবহার করে চলা নারকীয় অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ তৈরির স্বপ্ন পূরণে কূটনীতিকদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি জানান, বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের জন্য সারা জীবন অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবাসতেন তিনি। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দুর্দান্তভাবে এগিয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু এই নেতার হঠাৎ বিদায়ের কারণে রুখে যায় বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার আসার পর বঙ্গবন্ধুর দেখিয়ে যাওয়া পথেই পরিচালিত হচ্ছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু ‘ সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতিতে চলছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন বলেন, কারামুক্তির পর বঙ্গবন্ধু প্রথম ব্রিটেনে সফর করেন যেখানে তাকে স্বাগত জানান তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হেথ।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সফলতার সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপিত হয়।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের অ্যাম্বাসেডর লি জিমিং ১৯৫২ এবং ১৯৫৭ সালে বঙ্গবন্ধুর চীন সফরের কথা স্মরণ করে জানান, এ সময় চীনের জনগণের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুরে দেখিয়ে যাওয়া পথে তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশ সফলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলা মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান অ্যাম্বাসেডর পিটার ফারেনহোল্টজের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্ব এবং নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, তার মূল্যবোধকে সম্মান জানিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিতে বাংলাদেশকে সকলের সহায়তা করা উচিত।
ঢাকায় নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ডিপিএসএন দায়াসেকারা জানান, সকলের সমঅধিকার নিশ্চিতে বঙ্গবন্ধু মূল্যবোধকে অনুসরণ করা উচিত।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো বলেন, বঙ্গবন্ধুর মূল্যবোধ অনুসারে সকলকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার এবং কাউকে পেছনে ফেলে না যাওয়া নীতিমালা টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করে। যা জাতিসংঘেরও নীতিমালা। বাংলাদেশর উন্নয়নে সর্বদা জাতিসংঘে পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।
সুইস অ্যাম্বাসেডর নাটালিয়া চুয়ার্ড জানান, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার বর্ণনা শোনার পর বিষয়টি দারুণভাবে নাড়া দিয়েছে তাকে। বাংলাদেশের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের দৃঢ় সম্পর্কের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে সুইজারল্যান্ডের মত গড়ে তোলায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা জানতে পেরে তিনি দারুণভাবে আনন্দিত।
এই আলোচনায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জমির এবং উপকমিটির সেক্রেটারি ড. শাম্মী আহমেদ।
আলোচনা অনুষ্ঠানে ‘দ্য ডার্কেস্ট নাইট অ্যান্ড ইটস আফটারমেথ’ শীর্ষক বুকলেট উন্মোচন করা হয়। এ ছাড়াও ২১ আগস্ট নিয়ে আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।
ইত্তেফাক/আরএ
