দখল বন্ধ হবে, জলাবদ্ধতা দূর হবে
হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস
পাহাড়, টিলা আর দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ চা-বাগানে বেষ্টিত সিলেট মহানগর। নগরীর আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে প্রকৃতির রূপ-লাবণ্যের অপরূপ ভান্ডার। প্রকৃতির এই লীলাভূমি মুগ্ধ করে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য সাম্প্রতিক সময়ে কমে যাচ্ছিল অবৈধ দখল-দূষণে। বিলম্বে হলেও এই দখল-দূষণের হাত থেকে নগরীর রূপ-লাবণ্য ফিরিয়ে আনতে সিলেট সিটি করপোরেশন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। আর এখন তা ধীরে ধীরে দৃশ্যমান। যা নগরবাসীরও দৃষ্টি কেড়েছে।
নগরীর শোভা বর্ধন ও জলাবদ্ধতা দূর করতে সিসিকের নানা উদ্যোগের মধ্যে নগরীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি ছড়া, খাল, নালার ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে ওয়াকওয়ে। সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ইতিহাস ঐতিহ্য রক্ষা আর সবুজায়নকে প্রাধান্য দিয়ে সুপ্রশস্ত ওয়াকওয়ে নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি ব্যস্ত নগরবাসীকে প্রশান্তি দেবে। একই সঙ্গে ‘জলাধার, ছড়া-খাল দখল চিরতরে বন্ধ হবে। জলাবদ্ধতা সমস্যারও সমাধান হবে।
সিসিক সূত্র জানায়, নগরীর ছড়াগুলো জনপদের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সুরমা নদীতে মিশেছে। এক সময় প্রবাহমান এসব ছড়া, খাল দিয়ে নৌকা চলাচল করত। কিন্তু দখল-দূষণে ছড়া, খাল এখন আর আগের অবস্থায় নেই। সিসিক চায় এসব ছড়া, খালে সারা বছর পানি থাকুক। একই সঙ্গে বর্ষায় যাতে ছড়া, খালের মাধ্যমে নগরী থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যায়, কোনো জলাবদ্ধতা না থাকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সিলেট নগরীর বালুচর এলাকায় গোয়ালী ছড়ায় শূন্য দশমিক তিন পাঁচ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল ও সৌন্দর্যবর্ধনে নির্মাণ করা হয়েছে সুপ্রশস্ত ওয়াকওয়ে। যেখানে এখনই ভিড় করেছেন দর্শনার্থীরা। নগরীর পশ্চিম-উত্তর প্রান্তে গোয়ালী ছড়ায় প্রকল্পের কাছে সবুজায়ন চলছে। সিসিক জানায়, এসব স্থানে বসার ব্যবস্থা ও কফি হাউজ নির্মাণ করা হবে যেখানে বসে নগরবাসী একদণ্ড বিশ্রাম নিতে পারবেন। ওয়াকওয়ের সীমানাপ্রাচীরে বাংলাদেশ ও সিলেটের ঐতিহ্য শীর্ষক ম্যুরাল থাকবে। পাশে সৌন্দর্যবর্ধক আলোকবাতি ও শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে।
সিসিক সূত্র আরো জানায়, সিলেট মহানগরীর মধ্য দিয়ে প্রবাহমান ১২টি ছড়া প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়ে আছে। এগুলো সংরক্ষণ ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২৫ কিলোমিটার ছড়া সংরক্ষণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৫০ কোটি টাকা। প্রকল্পের একটি অংশ হলো ওয়াকওয়ে নির্মাণ। নগর জুড়ে ১৫ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এরই মধ্যে উপশহর, দাড়িয়াপাড়া, মুগনীছড়াসহ বিভিন্ন স্থানে ওয়াকওয়ে নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
