রায়পুরে জলাবদ্ধতায় লাখো মানুষের দুর্ভোগ

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২০, ২১:১১

এম আর সুমন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

‘এত পানি আমি আগে দেখিনি। শুধু আমি না, অনেক মুরব্বির সঙ্গে কথা বলেছি তারাও দেখেননি। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে এমন অবস্থা হয়েছে যে, দেখে মনে হচ্ছে পুরো গ্রাম যেন নদী ও খালের মতো হয়েছে’—কথাগুলো বলছিলেন উপজেলার ১ নম্বর চরআবাবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদ উল্যা বিএসসি। তিনি আরো বলেন, হাজিমারা এলাকার ডাকাতিয়া নদীর ওপর নির্মিত স্লুইস গেটটি বহু বছর অকেজো হয়ে আছে। পানি এখানে বাধা পেয়ে দুই পাশের গ্রামে ঢুকে পড়ে। হায়দরগঞ্জ বাজারের মহিউদ্দিন বলেন, এমন পানি কেউ দেখেনি। গ্রামের ৩০টির মতো পুকুর ও মত্স্য খামার ভেসে গেছে। আমার পুকুরও ভেসে বহু টাকার মাছ নষ্ট হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ছয় দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার সর্বত্র নজিরবিহীন এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে চরবংশী, চরআবাবিল, চরমোহনা, সোনাপুর, কেরোয়া, বামনী, চরপাতা উত্তর ও দক্ষিণ চরবংশী ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বহু গ্রামের সঙ্গে অন্য গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পৌরসভার বাসিন্দা আবু তাহের বলেন, সঠিক পরিকল্পনার অভাব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও খাল ভরাটের ফলে পানির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পৌরসভার মেয়র ইসমাইল খোকন বলেন, এবারের বৃষ্টিতে রায়পুরের মানুষের অনেক ভোগান্তি হচ্ছে। দোকানপাটসহ ঘরে ঘরে পানি ঢুকে স্বাভাবিক কাজকর্ম, রান্না-বান্না সব বন্ধ হয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, এ বছর জলাবদ্ধতাকে অন্যতম প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করে তা নিরসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। রায়পুর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ বলেন, এমন পানি আগে দেখিনি। এলাকার মানুষ বলছে তারাও দেখেননি। জলাবদ্ধতায় গ্রামের সড়ক, বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতার জন্য নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হওয়াকেও তিনি অন্যতম কারণ বলে মনে করেন। রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন শহিদ সরোয়ারদী বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে বেশির ভাগ জমি প্লাবিত হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে অনেক জমিতে পানি জমে থাকে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আমরা এখনো নির্ধারণ করিনি। রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী বলেন, গত কয়েক দিনের টানা মাঝারি বৃষ্টিতেই এখানে যে অবস্থা হচ্ছে তা ভাববার বিষয়। পুরো উপজেলা পরিষদ এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে সমগ্র উপজেলাতে জলাবদ্ধতায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।