বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা :কিছু আইনি তর্ক ও সুপ্রিম কোর্ট

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২০, ২১:৫৭

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সাল, শুক্রবার। সুবেহ্ সাদেকের সময়। দেশের সকল মসজিদ থেকে মুয়াজ্জিনের আহ্বান ধ্বনি-প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল—‘নামাজের জন্য এসো’, ‘মঙ্গলের জন্য এসো’ এবং ‘ঘুম থেকে নামাজ উত্তম’। ঠিক সেই মুহূর্তে পাশবিক সশস্ত্র ঘাতকেরা মুয়াজ্জিনের সেই আহ্বান উপেক্ষা করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের ঐতিহাসিক বাড়িটিতে আক্রমণ করে। ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে তার শিশুপুত্র রাসেল, বেগম মুজিবসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘাতক চক্র রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম ‘বাংলাদেশ বেতার’ দখল করে। সেখান থেকেই বেতারযন্ত্রে সদম্ভ প্রচারে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে নির্মম হত্যার দায়দায়িত্ব বিশ্ববাসীর কাছে স্বীকার করে।

বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মোশতাক আহমেদ ঐদিনই রাষ্ট্রপতির পদ দখল করেন। এরপর ২০ আগস্ট, ১৯৭৫ তারিখে সামরিক আইন জারি করেন, সংবিধান বহাল রেখেই। ঐ সামরিক আইনের কার্যকরিতা দেওয়া হয় ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ থেকে। শর্ত ছিল, সংবিধান কার্যকর থাকবে সামরিক আইনের ঘোষণা, সামরিক বিধি ও আদেশসমূহ সাপেক্ষে। এভাবে সংবিধানকে সামরিক আইন, সামরিক আদেশ ও বিধির অধীন করা হয়।

২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫ দখলদার রাষ্ট্রপতি মোশতাক আহমেদ ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ, ১৯৭৫’ জারি করেন। ঐ কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’-এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের অন্য সদস্যসহ ঐদিন সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায়মুক্তি প্রদান করেন। শুরু হয় এক কালো অধ্যায়ের। ঐ ‘কালো অধ্যাদেশে’ উল্লেখ করা হয় যে, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এ ঐসব হত্যা এবং হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার লক্ষ্যে যেসব পরিকল্পনা, পদক্ষেপ বা সক্রিয় কার্য গ্রহণ এবং সংঘটিত হয়েছে তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টসহ কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালে কোনো আইনি পদক্ষেপ বা অন্য কোনো কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না। ঐ অধ্যাদেশে আরো উল্লেখ করা হয় যে, রাষ্ট্রপতি কিংবা তার পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক ঘটনাসমূহে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণকে দায়মুক্তি প্রদান করবেন। এ মর্মে প্রদত্ত সার্টিফিকেটটি ‘পর্যাপ্ত সাক্ষ্য’ হিসেবে বিবেচিত হবে। এভাবে হত্যাকারীদের করা হয় দায়মুক্ত ও পুনর্বাসিত।

ঐ কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের কারণে তাত্ক্ষণিকভাবে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা সম্পর্কে কোনো মামলা দায়ের করা সম্ভব হয়নি। সামরিক শাসন ও জারিকৃত কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ দেশে বিচারহীনতার ও দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে লালন করে।

দীর্ঘদিন পর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে ২ অক্টোবর, ১৯৯৬ তারিখে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারবর্গের হত্যা সংক্রান্তে ধানমন্ডি থানার মামলা নম্বর-১০ (১০) ১৯৯৬ দায়ের করা হয়। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ভোটে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ, ১৯৭৫ বাতিল করে ‘ইনডেমনিটি (বাতিল) আইন, ১৯৯৬’ (আইন নম্বর-২১/১৯৯৬) পাশ করা হয়। এই আইন ১৪ অক্টোবর, ১৯৯৬ তারিখে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। সার্বভৌম সংসদে এই আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার সব বাধা দূর হয়।

‘ইনডেমনিটি (বাতিল) আইন, ১৯৯৬’-এ উল্লেখ করা হয় যে, ‘এই আইন বলবত্ হ’বার পূর্বে যে কোনো সময় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের অধীনে কৃত কোনো কার্য, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা, প্রদত্ত কোনো সার্টিফিকেট বা আদেশ-নির্দেশ অথবা অর্জিত কোনো অধিকার বা সুযোগ-সুবিধা, অথবা সরকার বা কোনো কর্তৃপক্ষের জন্য সৃষ্ট কোনো দায়দায়িত্ব, যদি থাকে সেক্ষেত্রে জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এর ধারা ৬-এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হবে না এবং উক্তরূপ কৃত কার্য, গৃহীত ব্যবস্থা, প্রদত্ত সার্টিফিকেট বা আদেশ-নির্দেশ বা অর্জিত অধিকার বা সুযোগ-সুবিধা বা সৃষ্ট দায়-দায়িত্ব উপ-ধারা (১) দ্বারা উক্ত অধ্যাদেশ রহিতকরণের সঙ্গে সঙ্গে এইরূপে অকার্যকর, বাতিল ও বিলুপ্ত হয়ে যাবে যেন উক্ত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয় নাই এবং উক্ত অধ্যাদেশের কোনো অস্তিত্ব ছিল না ও নাই।’

এরপর ধানমন্ডি থানায় দায়েরকৃত মামলা নম্বর-১০ (১০) ১৯৯৬ সূত্রে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হলে গ্রেফতারকৃত আসামি কর্নেল (বরখাস্তকৃত) শাহরিয়ার কবির এবং আসামি কর্নেল (বরখাস্তকৃত) সৈয়দ ফারুক রহমানের পক্ষে তার মা মিসেস মাহমুদা বেগম ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ (বাতিল) আইন, ১৯৯৬’ এবং বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা এবং জেল হত্যাসংক্রান্ত মামলা দুইটির কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে পৃথক পৃথক ভাবে দুইটি রিট পিটিশন দায়ের করে। উভয় রিট পিটিশন একত্রে শুনানি হয়।

আদালতের সামনে রিট আবেদনকারীগণের আইনজীবীর মূল বক্তব্য ছিল—(১) ইনডেমনিটি (বাতিল) আইন, ১৯৯৬ সংবিধানের চতুর্থ তপশিলে বর্ণিত অনুচ্ছেদ ‘৩ক’ এবং ‘১৮’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক; (২) ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ, ১৯৭৫ আইনটিকে যেহেতু সংবিধানে ৫ম সংশোধনী দ্বারা অনুমোদন, সুরক্ষিত ও সংরক্ষণ করা হয়েছে, সেহেতু, সাধারণ কোনো আইন পাশের মাধ্যমে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের দ্বারা উপরোক্ত আইনটি বাতিল করা বেআইনি ও ক্ষমতা বহির্ভূত এবং ঐ আইন বাতিল করতে হলে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যদের দ্বারা সংবিধান সংশোধন করা আবশ্যক; (৩) যদি ধরেও নেওয়া যায় যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থনে সাধারণ একটি আইন দ্বারা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটি বাতিল আইন সংগত হয়েছে, তথাপিও ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ, যা সংবিধানের অংশ হিসেবে বিবেচিত, তত্দ্বারা রীট আবেদনকারীরা যে দায়মুক্তির অধিকার অর্জন করেছে, তা কোনোভাবেই হরণ করা সংবিধান সম্মত নয়। এক্ষেত্রে জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের ধারা ৬-অনুযায়ী বাতিলকৃত আইন দ্বারা আবেদনকারীরা দায়মুক্তির যে অধিকার প্রাপ্ত হয়েছে তা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন করা যাবে না; (৪) সংবিধান যেহেতু, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সুরক্ষা দিয়েছে, সেহেতু, আসামিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হতে পারে না; সুতরাং ফৌজদারি মামলার কার্যধারা বাতিলযোগ্য।

এখানে উল্লেখ করা সংগত হবে যে, সংবিধানে ৫ম সংশোধনীর (বর্তমানে বাতিল ও অস্তিত্বহীন) মাধ্যমে সংবিধানের ৪র্থ তপশিলে দুইটি অনুচ্ছেদ অর্থাত্ ‘৩ক’ এবং ‘১৮’ সংযোজন করা হয়। অনুচ্ছেদ ৩ক (১) ও (২) উল্লেখ করা হয় যে, ২০ আগস্ট ১৯৭৫-এ ঘোষিত সামরিক আইন সংক্রান্ত ঘোষণা, ০৮ নভেম্বর ১৯৭৫ এবং ২৯ নভেম্বর ১৯৭৫-এর ঘোষণাসমূহ এবং ঐ ঘোষণাসমূহের সব সংযোজন, সংশোধন ও পরিবর্তন, সব সামরিক বিধি, আদেশ এবং প্রণীত আইনসমূহ যা ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ এবং উল্লেখিত ঘোষণা বাতিল এবং সামরিক আইন বাতিলের মধ্যবর্তী সময়ে প্রণীত হয়েছিল’—তা বৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং দেশের কোনো আদালত কিংবা ট্রাইব্যুনালে এসবের বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

উল্লিখিত সময়কালে রাষ্ট্রপতি বা প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক কর্তৃক জারিকৃত আদেশ, আইনসমূহ বা কৃত অন্যান্য কার্যধারা এবং সামরিক আইনের ঘোষণা, বিধি বা উপরিউক্ত আদেশসমূহে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অপর কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ বা দণ্ডাদেশ বা অন্য সব প্রয়োগকৃত ক্ষমতা বৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালে এ সংক্রান্তে কোনোরূপ প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

অনুচ্ছেদ ‘১৮’-এ উল্লিখিত সময়ে প্রণীত সামরিক ঘোষণাসমূহ এবং এর সংযোজন, বিয়োজন, পরিবর্তন এবং ঐ সব ঘোষণা, বিধি ও আদেশের ক্ষমতাবলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কৃত সব আদেশ, কর্ম, দণ্ডাদেশকে ‘অনুমোদন’ (ratification) এবং সমর্থন দিয়ে উপরিউক্ত বিষয়সমূহের বৈধতা নিয়ে কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট কোনো অজুহাতেই কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না মর্মে বিধান করা হয়।

হাইকোর্ট বিভাগ উপরিউক্ত সাংবিধানিক ও আইনি বিষয়গুলো নিষ্পত্তির জন্য তত্কালীন বিজ্ঞ অ্যাটর্নি জেনারেল কে এস নবী এবং ছয় জন অ্যামিকাস কিউরির বক্তব্য শ্রবণ করেন। ছয় জন অ্যামিকাস কিউরির মধ্যে চার জন—সৈয়দ ইসতিয়াক আহমেদ, রফিকুল হক, কামাল হোসেন, এম আমিরুল ইসলাম এবং তত্কালীন অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম নবীর বক্তব্য ছিল প্রায় এক ও অভিন্ন। তাদের বক্তব্য ছিল— (১) ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটি ছিল সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭, ৩১, ৩২, ৪৬ এবং ৪৭-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সামঞ্জস্যহীন এবং অকার্যকর একটি আইন; (২) অকার্যকর একটি আইন কখনই সংবিধানের অংশ হতে পারে না এবং একটি অকার্যকর আইন কারো অনুকূলে কোনো ‘অধিকার বা স্বার্থ (vested right)’ সৃষ্টি করতে পারে না; (৩) কোনো খুনিকে কখনো দায়মুক্তি দেওয়া যায় না; এবং (৪) একজন রাষ্ট্রপতিকে সপরিবারে হত্যায় জড়িত ব্যক্তিরা দায়মুক্তি পেতে পারে না।

অ্যামিকাস কিউরি এম নুরুল্লাহর বক্তব্য ছিল— ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ, ১৯৭৫ কোনো সামরিক ঘোষণা, রেগুলেশন বা আদেশ ছিল না। এটা ছিল একটি সাধারণ আইন, যা তত্কালীন রাষ্ট্রপতি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩ (১)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করেছিলেন। ঐ অধ্যাদেশ যখন জারি করা হয় তখন সামরিক আইনের পাশাপাশি সংবিধানও বহাল ছিল। এ অধ্যাদেশ সংবিধানের কোনো অংশ ছিল না বা হতে পারে না এবং এটি একটি সাধারণ আইন হিসেবে জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ভোটে ঐ অধ্যাদেশ বাতিল করে পাশকৃত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ (বাতিল) আইন, ১৯৯৬ একটি বৈধ ও সংবিধান সম্মত আইন।’

অপর অ্যামিকাস কিউরি খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদের বক্তব্য ছিল—‘একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে ঐ অধ্যাদেশটি জারি হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে সংবিধানের ৫ম সংশোধনীর ফলে ঐ আইনটি সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে, যা শুধু সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যই পারেন পরিবর্তন বা বাতিল করতে, সাধারণ কোনো আইন দ্বারা শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতা দ্বারা ঐ আইন বাতিল করা যাবে না’।

সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবী ও বিজ্ঞ অ্যামিকাস কিউরিগণের বক্তব্য, আইন ও সংবিধান এবং প্রতিষ্ঠিত নীতি বিশ্লেষণে হাইকোর্ট বিভাগ সিদ্ধান্ত দেয় যে, (১) ইনডেমনিটি (বাতিল) অধ্যাদেশ, ১৯৯৬ একটি বৈধ আইন এবং এটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়; (২) ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ, ১৯৭৫ (অধ্যাদেশ নং ৫০/১৯৭৫) একটি অকার্যকর আইন, কেননা এটা সংবিধানের সঙ্গে বেমানান বা সামঞ্জস্যহীন ছিল; (৩) ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ, ১৯৭৫ যেহেতু, সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল এবং ইনডেমনিটি (বাতিল) অধ্যাদেশ, ১৯৯৬ সংবিধানের কোনো বিধানকেই লঙ্ঘন বা বিক্ষুব্ধ করেনি, সেহেতু বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ধানমন্ডি থানা মামলা নং-১০(১০)১৯৯৬ এবং জেল হত্যা মামলা লালবাগ থানার মামলা নম্বর ১১(১১)১৯৭৫ বেআইনি বা ক্ষমতাবহির্ভূত মর্মে প্রার্থিত ঘোষণার কোনো আইনি সুযোগ নেই; উপরন্তু জেল হত্যা মামলা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের আওতাবহির্ভূত ছিল; (৪) পাঁচ জন বিজ্ঞ অ্যামিকাস কিউরি ও বিজ্ঞ অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য, ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ, ১৯৭৫ আইনটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ইনডেমনিটি (বাতিল) অধ্যাদেশ আইন, ১৯৯৬ একটি বৈধ আইন’—সঠিক ও আইনসম্মত। (চলবে)

n লেখক :বিচারপতি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, হাইকোর্ট

বিভাগ এবং সাবেক চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক

অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১, বাংলাদেশ