মা-বাবা হোক শিশু সৃজনশীলতার প্রস্তুতকারক

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২০, ২১:৫৮

মুহাম্মদ আব্দুল আলিম

সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে বর্তমান সভ্যতায় পৌঁছানোর একমাত্র কারণ হলো মানুষের সৃজনশীলতা। বর্তমান পৃথিবীতে তো বটেই, ভবিষ্যতেও সভ্যতার অগ্রগতি মানুষের সৃজনশীলতার মধ্য দিয়েই হবে। যেহেতু একজন মানুষের ভিত্তি গড়ে ওঠে শৈশব কালকে কেন্দ্র করে। আর সেই শৈশব কালের তত্ত্বাবধায়ক হলো মা-বাবা। সেহেতু মা-বাবাই পারে একজন সৃজনশীল শিশু প্রস্তুত করতে।

মানুষের নিজস্ব চিন্তাভাবনার আলোকে কোনো কিছু নতুন করে তৈরি করা এবং কোনো বিষয়কে নতুনভাবে উপস্থাপন করার চিন্তাকে সৃজনশীলতা বলে। সৃজনশীলতার আরেক নাম সৃষ্টিশীলতা। একটি দেশের উন্নয়ন তখনই সম্ভব হবে যখন মানুষ সৃজনশীল হয়ে ওঠবে। তাই দেশকে ও জাতিকে এগিয়ে নিতে চাইলে শৃজনশীলতা চর্চার কোনো বিকল্প নেই। আর এই চর্চাটা শুরু করতে হবে শৈশব থেকেই। কারণ গবেষণায় দেখা যায়—‘শিশুর প্রথম বছরগুলোতেই তারা পূর্বপুরুষের প্রায় ৯০ ভাগ চিন্তাচেতনার আলোকে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে’। সুতরাং মা-বাবকেই হতে হবে শিশুর সৃজনশীলতার প্রস্তুতকারক।

শিশুদের মধ্যে সৃজনশীলতা জাগ্রত করতে হলে যেসব বিষয়ে শিশুর যত্ন নিতে হবে ঃ ১. শিশুকে নানান বিষয়ে প্রশ্ন করে মনের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করতে হবে, যাতে করে সেটা সম্পর্কে জানার জন্য আগ্রহ বেড়ে যায়, আর যা সৃজনশীল হওয়াতে সহায়ক। ২. সৃজনশীল সহায়ক বিষয়ে শিশুকে স্বাধীনতা দিন। ৩. শিশুর সৃজনশীলতাকে উত্সাহ ও স্বীকৃতি দিন। ধরেন, সে কোনো ছবি আঁকল বা কোনো কিছু তৈরি করল সেটাকে ঘরে দৃশ্যমান স্থানে রেখে দিন। ৪. শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়ক ও নিরাপদ— এমন খেলনা দিন। ৫. শিশুকে যেসব কাজ ভাবতে সাহায্য করে—তা করতে দিন। ৬. ভার্চুয়াল বিনোদন থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখার চেষ্টা করুন। ৭. শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বৃদ্ধি করতে মাঠে খেলতে দিন এবং অন্য শিশুর সঙ্গে মিশতে দিন, কারণ খেলার বিভিন্ন নিয়মশৃঙ্খলা শিশুকে তার সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ দেখায়। কবিতা, গান, বিতর্ক, প্রতিযোগিতা এবং সহশিক্ষামূলক বিনোদনের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। ৮. যখন শিশু খেলবে বা কোনো সৃজনশীল কাজ করবে, তখন সে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে পারে। তাকে সমস্যাটির সরাসরি সমাধান না দিয়ে তাকেই সমাধান বের করতে বলুন। ৯. শিশুকে প্রশ্ন করতে বাধা দেওয়া যাবে না, সব শিশুই সমভাবে সৃজনশীল নয়; কিন্তু সব শিশুই তাদের আচরণের মধ্য দিয়ে সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে থাকে। তাই মা-বাবাকে শিশুর মনোজগতের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। ১০. আপনার শিশুর মধ্যে কীসের প্রতিভা সুপ্ত আছে, তা বের করুন, তদানুযায়ী এগোতে অনুপ্রেরণা দিন। ১১. সৃজনশীল বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলুন। ১২. শিশুরা সবকিছুর অনুকরণ করতে চায়। তাই তাদের সামনে নিজেকে রোল মডেল বা আদর্শ উপস্থাপন করুন। নিজেরা কোনো সৃজনশীল কাজ করুন অথবা সৃজনশীল কাজ দেখানোর চেষ্টা করুন।

শিশুর সৃজনশীলতায় যদি ব্যাঘাত দেওয়া হয়, তবে এক সময় তাদের সবকিছু হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকে। সমাজের কঠিন পরিস্থিতিসমূহ মোকাবিলা করার জন্য শৈশব থেকেই সৃজনশীল হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। আর মা-বাবাই যেহেতু শৈশবের সর্বপ্রথম ও সর্বোত্তম শিক্ষক। সেহেতু মা-বাবাকেই হতে হবে শিশুর সৃজনশীলতার প্রস্তুতকারক।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়