গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্দেশ অমান্য
টঙ্গী (গাজীপুর) সংবাদদাতা
গাজীপুর জেলার বাজারের তালিকায় অন্যতম টঙ্গী বাজার। ফলে এই বাজার থেকে বছরে কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে জমা দেওয়া হয় সরকারি কোষাগারে। এর ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের ১২ আগস্ট গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেন খাস আদায়ের। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ঘোষণা তোয়াক্কা না করে দলীয় ক্ষমতার দাপটে ভুয়া ইজারার নামে কয়েক জন প্রভাবশালী নেতা প্রকাশ্যে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টঙ্গীর এই বাজারে পাইকারি আড়তসহ প্রতি রবিবার সাপ্তাহিক হাট। বাজারের অলিগলির সব রাস্তা বন্ধ করে কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানদাররা। এই বাজারে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা থেকে পাইকারি ও খুচরা বাজার করতে আসেন ক্রেতা।
জানা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর দুই কোটি টাকা মূল্যে এক বছরের জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে বাজার ইজারা দিয়ে থাকেন। সে অনুযায়ী প্রতি দোকান থেকে ১০০ টাকা আদায় করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। টঙ্গী বাজার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে স্থানীয় নানা ঝামেলার কারণে বাজার ইজারা দেওয়া হয়নি। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ সরকারি খাস আদায় করার জন্য গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মো. এমরান আলী সরকার (রাজস্ব কর্মকর্তা) মো. মাসুম সরকার (কর নির্ধারণ কর্মকর্তা) এবং ফকরুল ইসলামসহ (বাজার আদায়) তিন সদস্যদের একটি কমিটি গঠন করেন।
বাজার থেকে খাস আদায় বাবদ প্রতি দোকান থেকে ১০০ টাকা আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সিটি করপোরেশনের খাস আদায়ের তদারকি করতে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। অথচ গতকাল রবিবার হাটে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কাজী সেলিম, আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশকারী নেতা রুহুল আমিন সরকার ওরফে মনি সরকারের লোকজন জোরপূর্বক প্রতি দোকান থেকে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন। তাদের দাবিকৃত চাঁদা দিতে না চাইলে দোকান উঠিয়ে দেওয়াসহ ব্যবসায়ীদের ওপর নির্যাতন চালানোরও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেত্রকোনা, কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ীরা জানান, আমাদের ব্যবসার লাভের চেয়ে এই বাজারে চাঁদা বেশি দিতে হয়। একই ভাবে বাজারের অন্যান্য দোকান থেকেও তাদের নির্ধারিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এব্যাপারে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এমরান আলী সরকার বলেন, ‘আমরা গত কোরবানি ঈদ পর্যন্ত টঙ্গী বাজার থেকে খাস অর্থ আদায় করেছি। বর্তমানে কারা আদায় করছে আমার জানা নেই।’
