কক্সবাজারের চকরিয়ায় ‘গরু চুরির অপরাধে’ বয়স্ক মা ও তরুণী দুই মেয়েকে রশিতে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। ‘গরু চোর’ আখ্যা দিয়ে মা-মেয়েকে নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে কোমরে রশি বেঁধে তিন জনকে প্রকাশ্যে সড়কে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে। সেখানে চেয়ারম্যানও তাদের প্রহার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এক পর্যায়ে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ তাদের চকরিয়া হাসপাতালে নিয়ে চিকিত্সা দেয়। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজারের সীমান্ত চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার ছবি প্রকাশের পর শনিবার রাতে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়।
এর আগে শুক্রবার রাতেই হারবাং বিন্দাবনখীল লালব্রিজ এলাকার মাহবুবুল হক নামের এক জন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় একটি গরু চুরির মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে শনিবার বিকেলেই তাদের কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। তাদের কাছ থেকে মানুষ অজ্ঞান করার স্প্রে, একটি ছুরি উদ্ধারের কথাও মামলায় লেখা হয়েছে। কক্সবাজারের জেল সুপার মো. মোকাম্মেল হোসেন চুরির মামলায় মা-মেয়ে ও ছেলেসহ চার জন কারাগারে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করে বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় তাদের কারাগারে আনা হয়েছে।
এরা হলেন, পটিয়ার শান্তিরহাট কুসুমপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আবুল কালামের স্ত্রী পারভীন আক্তার (৫৫), তার দুই মেয়ে সেলিনা আক্তার সেলী (২৫), রোজিনা আক্তার (২০) ও ছেলে এমরান (২৩)। অপরজন পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ ছোট্ট নামের একজন। তবে পটিয়ার শান্তিরহাট কুসুমপুর এলাকায় খোঁজ নিয়ে সেখানে ঐ নামে কোনো অধিবাসীকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা এ নামের কাউকে চেনেন না।
তাদের চেয়ারম্যানের কবল থেকে নিয়ে যাওয়া চকরিয়া থানার হারবাং তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, শুক্রবার স্থানীয়রা খবর দিলে আমরা ফোর্স পাঠাই। আমাদের ফোর্স গিয়ে গুরুতর অবস্থায় মা-মেয়েকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আসি। আমরা তাদের চিকিত্সার ব্যবস্থা করেছি। তিনি আরো জানান, স্থানীয় এক ব্যক্তির দায়ের করা গরু চুরির মামলায় তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী কয়েক জন জানিয়েছেন, এলাকায় চেয়ারম্যানের লোক বলে পরিচিত কয়েক যুবক একদফা মা-মেয়ের ওপর নির্যাতন চালায়। এরপর হারবাং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামের পাঠানো চৌকিদার (গ্রাম পুলিশ) তাদের রশিতে বেঁধে তার কার্যালয়ে এনে আবার নির্মমভাবে নির্যাতন করেন। উপর্যুপরি নির্যাতন শেষে চেয়ারম্যানের লোকেরাই তদন্তকেন্দ্রে ফোন করে পুলিশ এনে তাদের হাতে মা-মেয়েকে মুমূর্ষু অবস্থায় তুলে দেন।
চেয়ারম্যান মিনারুল ইসলাম মা-মেয়েকে প্রহারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি তখন ছিলাম না। চট্টগ্রাম থেকে এসে তাদের পরিষদে পেয়ে পার্শ্ববর্তী হারবাং তদন্ত কেন্দ্রে খবর দিয়ে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।
