ট্রাম্প মিথ্যাবাদী তার কোনো নীতি নেই

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২০, ২২:৩৭

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘মিথ্যাবাদী’ ও ‘নীতিহীন’ মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন তার বড় বোন মেরিঅ্যান ব্যারি ট্রাম্প। এছাড়া ভাইকে ‘বখে যাওয়া ছেলে’ও বলেছিলেন তিনি। তিনি বলেছিলেন, নীতি না থাকায় ট্রাম্পের মতো লোককে বিশ্বাস করা ঠিক নয়। এক ঘরোয়া আলাপচারিতায় এমন কথাবার্তা হয়েছিল বলে বেশ কয়েকটি অডিও রেকর্ড থেকে জানা গেছে। ফুপুর সঙ্গে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে হওয়া ঐ কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করেছিলেন ট্রাম্পের ভাতিজি মেরি।

শনিবার রাতে ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনে রেকর্ডগুলো প্রকাশ করে বলে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।                 এসব রেকর্ডে ব্যারিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কার্যকলাপের ব্যাপক সমালোচনা করতে শোনা গেছে।

ব্যারিকে বলতে শোনা যায়,  ‘ট্রাম্প যেসব টুইট করে আর মিথ্যা বলে, ওহ গড! আমি খোলামেলাভাবেই বলছি। যেভাবে গল্প বদলায়। কোনো প্রস্তুতি থাকে না। মিথ্যা বলেই চলে।’ উল্লেখ্য, ট্রাম্পের ভাতিজি মেরি সম্প্রতি চাচাকে নিয়ে ‘টু মাচ অ্যান্ড নেভার এনাফ :হাউ মাই ফ্যামিলি ক্রিয়েটেড দ্য ওয়ার্ল্ডস মোস্ট ডেঞ্জারাস ম্যান’ নামের একটি বই লিখেছেন। সেই বইটি নিয়েও ব্যাপক তোলপাড় হয়েছে। এমনটি ট্রাম্প বইটির প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বেশ চেষ্টাও করেন।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ভাতিজির সঙ্গে এক আলাপচারিতায় ব্যারি কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে ট্রাম্পের ‘জালিয়াতি’ প্রসঙ্গেও বলেন। ট্রাম্পের হয়ে অন্য এক জন নাকি স্যাট (স্ট্যান্ডার্ডাইজড কলেজ অ্যাডমিশন টেস্ট) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। আলাপচারিতায় বলা হয়, ‘সে এক বছর ফোর্ডহ্যামে ছিল, তার পরই সে পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটিতে যায়, কেননা কেউ তার হয়ে পরীক্ষাগুলো দিয়েছিল। স্যাট বা ঐরকম কিছু। এটাই আমি বিশ্বাস করি।’

ট্রাম্পের এ বোন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেলে বেঞ্চের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ট্রাম্প ‘পড়ে না’ বলেও মন্তব্য করেন আরেক রেকর্ডে। ভাই প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ব্যারিকে কখনোই প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সমালোচনা করতে দেখা যায়নি। তবে গত চার বছর ধরে তার কার্যকলাপ যে বড় বোনকে মোটেও সন্তুষ্ট করেনি, রেকর্ডগুলো থেকেই তা বোঝা যাচ্ছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, তারা ওয়েবসাইটে দেয়নি এমন এক অডিওতে ব্যারি মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে চাওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ছেলেমেয়েদের তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা করার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘তার কোনো নীতিই নেই। নেই মানে নেই!’ এ ধরনের আরো অনেক সমালোচনামূলক কথা আছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে।