ঢাকার দুই আসনে নৌকার মনোনয়ন যুদ্ধ

রাজনীতিক বনাম ব্যবসায়ী

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২০, ২২:৪৫

ঢাকার দুই সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লড়াইয়ে রাজনীতিকদের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে নেমেছেন ব্যবসায়ীরা। সংসদের শূন্য পাঁচটি আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে শেষ দিন পর্যন্ত মোট ১৪১ জন মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা-১৮ আসনে ৫৬ জন ও ঢাকা-৫ আসনে ২০ জন রয়েছেন।

আবেদনপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে ৩৫ জনই পেশায় ব্যবসায়ী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন : এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক এম এ রাজ্জাক খান রাজ ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মো. খসরু চৌধুরী। আর ঢাকা-৫ আসনে রয়েছেন ১২ জন ব্যবসায়ী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন :এশিয়ান টেলিকাস্ট লি. (এশিয়ান টিভি) ও এশিয়ান টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান শিল্পপতি হারুন-উর রশিদ ও আমুলিয়া মডেল টাউনের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান।

রাজনীতিক-ব্যবসায়ী সবাই যার যার কর্মকাণ্ড দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টিতে আনার চেষ্টায় এখন ব্যস্ত। তবে শেষবেলায় কার হাতে উঠবে নৌকার টিকিট, এনিয়ে চলছে আলোচনা। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে প্রার্থী চূড়ান্ত হবে। সাধারণত মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাত্কার শেষে বোর্ড প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও করোনা ভাইরাসের কারণে এবার সরাসরি সাক্ষাত্কার না-ও হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল রবিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত পাঁচটি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল। শেষ দিনে পাঁচটি আসনে আরো ১০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র কিনেছেন। তারা হলেন :                নওগাঁ-৬ আসনে মো. মান্না মেহেদী মানিক; পাবনা-৪ আসনে প্রফেসর ড. এস এম কফিল উদ্দিন; ঢাকা-৫ আসনে মো. কামরুল হাসান রিপন, সালাহউদ্দীন আহমেদ ও নাদিরা পারভীন এবং ঢাকা-১৮ আসনে আব্দুল হাফিজ মলি­ক, মো. মতিউর রহমান, মফিজউদ্দিন আহমেদ, আবদুল মজিদ খান ও এস ফয়সল আহমেদ।

ঢাকা-১৮ (উত্তরা) আসনে নৌকার হাল ধরতে যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের খান, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি নাজিম উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিব হাসান, বিমানবন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহজাহান আলী মন্ডল, প্রয়াত সাহারা খাতুনের ভাগনে আনিসুর রহমানসহ ৫৬ জন মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।

ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী) আসনে প্রয়াত হাবিবুর রহমান মোল্লার বড় ছেলে ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করে জমা দিয়েছেন। এছাড়া মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহম্মেদ মান্নাফি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক চৌধুরী সাইফুন্নবী সাগর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, যাত্রাবাড়ি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুসহ ২০ জন। এর মধ্যে একজন নেতা বড় ঠিকাদার বলেও পরিচিত। বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ কামালের স্ত্রী ক্রীড়াবিদ সুলতানা কামালের ছোট ভাইয়ের মেয়ে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সাবেক সদস্য নেহরীন মোস্তফা দিশিও মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনে প্রয়াত সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের স্ত্রী সুলতানা পারভীন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক, সহসভাপতি শাহিন মনোয়ারা হক ও আত্রাই উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদ ইসলাম বিপ্লবসহ মোট ৩৪ জন প্রার্থী আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।

পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে প্রয়াত শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর পরিবারের ৫ জন সদস্য নির্বাচনে আগ্রহী। মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন প্রয়াত ডিলুর ছেলে গালিবুর রহমান শরিফ, সাবেক সংসদ সদস্য পাঞ্জাব বিশ্বাস, আটঘরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তানভীর ইসলাম, ঈশ্বরদী উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জিরু, মেজর জেনারেল (অব.) নজরুল ইসলাম রবি, আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম রতন, ঈশ্বরদী উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বিশ্বাসসহ মোট ২৮ জন।

সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর) আসনে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র বিক্রি হয়েছে তিনটি। আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের বড় ছেলে তানভীর শাকিল জয় আবেনদপত্র জমা দিয়েছেন। মোহাম্মদ নাসিম ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে এ আসনের এমপি নির্বাচিত হন। মাঝখানে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের দেওয়া মামলার কারণে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি মোহাম্মদ নাসিম। ঐ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন জয়। গত ১৩ জুন মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে দলের হাইকমান্ড বাবার অবর্তমানে ছেলে তানভীর শাকিল জয়কেই এই আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে অনেকটাই নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগও তাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। এ আসনে মোহাম্মদ নাসিমের ভাইয়ের ছেলে মো. শেহরীন সেলিম এবং অমিত কুমার দেব নামে আরেক জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।