ভুল চিকিত্সায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২০, ০০:২২

ভুল চিকিত্সায় আয়েশা আক্তার আলফি (১৪) নামে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে গ্রিন ডেলটা হাসপাতালের যাত্রাবাড়ী শাখার আইসিইউতে চিকিত্সাধীন অবস্থায় আয়েশার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর রোগীর স্বজনেরা হাসপাতাল ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করে। এসময় ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখে তারা। পরে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন ঘটনাস্থলে এসে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে স্বজনরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

আলফি পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল। সে ফতুল্লার দক্ষিণ নয়ামাটি এলাকার শাহাদাত্ হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া মিজানুর রহমানের মেয়ে। নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বাড়ির ছাদে খেলতে গিয়ে পায়ে ব্যথা পায় আয়েশা। পরে স্থানীয় চিকিত্সকরা এক্সরে করে তাদের জানান, আয়শার দুই পায়ের হাঁড় ভেঙে গেছে এবং চিকিত্সার জন্য তাকে ঢাকা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এ সময় পাগলা বাজার কামালপুরে অবস্থিত গ্রিন ডেলটা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আয়েশার পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে নারায়ণগঞ্জে অপারেশনের মাধ্যমে তার চিকিত্সা সম্ভব। পরে বৃহস্পতিবার আয়েশার অপারেশনের জন্য তাকে ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেকক্ষণ পর চিকিত্সকরা জানান, আয়েশার আবস্থা গুরুতর, তাকে নিবিড় পরিচর্যার জন্য ডেলটা হাসপাতালের যাত্রাবাড়ী শাখায় স্থানান্তর করা হবে। তিন দিন আইসিইউতে থাকার পর রবিবার ভোরে আয়েশার মৃত্যু হয়।

নিহত আয়েশার বড় ভাই হাসিবুল হাসান শান্ত বলেন, অপারেশনের সময় হঠাত্ তারা বলেন, আমার বোনের অবস্থা খারাপ এবং তাকে যাত্রাবাড়ীর একটি হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে যেতে হবে। পরে অপারেশন থিয়েটারে থাকা এক নার্সের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, অপারেশনের আগে আমার বোনকে অজ্ঞান করার জন্য যে ইনজেকশন পুশ করা হয়েছিল তা গিয়ে আয়েশার শিরায় ঢুকে যায়। আয়েশা অজ্ঞান না হওয়ায় পরে আরেকটি ইনজেকশন পুশ করা হয়। ওষুধের ওভার ডোজের কারণে আয়েশা গভীর কোমায় চলে যায় এবং তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর গতকাল সকালে সে মারা যায়।’ শান্ত আরো বলেন, ‘মৃত্যুর আগে দফায় দফায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। আশ্বস্ত করে আয়েশার কিছু হবে না এবং চিকিত্সার সার্বিক খরচ তারা বহন করবে। কিন্তু আমার বোনের মৃত্যুর পর থেকে হাসপাতাল তালাবদ্ধ এবং কাউকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না।’

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে প্রেরণ করেছি। ভুল চিকিত্সায় মৃত্যু হয়েছে কি না সেটা পোস্ট মর্টেমের পর জানা যাবে। এছাড়া প্রাথমিক তদন্ত চলছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। এ সময় নিহতের পরিবারকে একটি লিখিত অভিযোগ করতে বলেন সিভিল সার্জন। এদিকে, ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা সামাল দিতে ফতুল্লার গ্রিন ডেলটা হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।