বিশ্বজয়ীদের উত্তরসূরি তৈরির পর্ব

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২০, ২১:২০

স্পোর্টস রিপোর্টার

গত বছরই দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশের জন্য প্রথম বিশ্বকাপ জিতে এনেছিলেন আকবর আলী খানরা। কিন্তু সময়ের কারণে তারা এখন ‘সিনিয়র’। যুব দলের জন্য তৈরি করতে হচ্ছে প্রায় আনকোরা একটা বাহিনী। বিকেএসপিতে চলছে এখন সেই নতুন যুব দল গঠনের পর্ব। দলটির ম্যানেজার, সাবেক ফাস্ট বোলার সজল চৌধুরী বললেন, তারা আশাবাদী মাস খানেকের মধ্যে আরেকটি লড়াকু দল দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারবেন।

সাধারণত অনূর্ধ্ব-১৯ দল গঠন করা হয় একটা বিশ্বকাপ সামনে রেখে। নিয়ম হলো বিশ্বকাপের আগে একটা কাট আউট তারিখে দলের সকলের বয়স ১৯ বা তার কম থাকতে হবে। ফলে একজন খেলোয়াড় দুটির বেশি বিশ্বকাপ খেলতে পারেন না সাধারণত। বাংলাদেশের গতবারের বিশ্বকাপ জেতা খেলোয়াড়রা প্রায় সবাই গত আসরেই ১৯ বছর পার করে ফেলেছেন। টিকে আছেন প্রান্তিক নওরোজ নাবিলের মতো দুই তিন জন খেলোয়াড়। বাকি স্কোয়াডটা নতুন করে করতে হবে।

নতুন স্কোয়াড করার ক্ষেত্রে অন্যান্য বছর নির্বাচকরা মূলত চারটি জোনের মধ্যে অনুষ্ঠিত যুব চ্যাম্পিয়ন লিগের দিকে তাকিয়ে থাকেন। সেখানকার সেরা পারফরমারদের বেছে নেওয়া হয়। এবার সেই লিগ হয়নি করোনার কারণে। ফলে দল গঠনটা একটু কঠিন হয়েছে। এবার সারাদেশ থেকে ডেকে নেওয়া হয়েছে ৪৫ জন সেরা পারফরমারকে। আর এদের নিয়ে বিকেএসপিতে রবিবার শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ক্যাম্প। এখান থেকে তৈরি করা হবে ২৫ সদস্যের দল।

দলের ম্যানেজার সজল চৌধুরী বলছিলেন, ‘আমরা এখানে প্রথম ব্যাচ নিয়ে এসেছি ১৭ তারিখ। ১৮ তারিখ সকাল থেকেই ফিটনেস ট্রেনিং শুরু করেছি। এই ছেলেরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছে। খুব দ্রুত মানিয়ে নিচ্ছে এরা। আশা করছি, এক মাসের মধ্যে এরা ভালো একটা অবস্থায় চলে আসবে।’

এই এক মাসের ক্যাম্পের শেষ দিকে এসে এই প্রাথমিক দলটির খেলোয়াড়রা পরস্পরের বিপক্ষে আটটি ম্যাচ খেলবে। আর এখান থেকেই বেছে নেওয়া হবে একটি ২৪ সদস্যের দল। এই দলটিকে দুই বছর ধরে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করে তোলা হবে বলে সজল চৌধুরী বলছিলেন, ‘আমরা আগের বিশ্বকাপের দলটিকেও দুই বছর একসঙ্গে রেখে অনেক ম্যাচ খেলিয়ে তৈরি করেছিলাম। এবারও সেরকম একটা পরিকল্পনা আছে।’ এবার অবশ্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই দলটির জন্য যথেষ্ট খেলা আয়োজন করা। করোনার কারণে এখনো পর্যন্ত দুনিয়া জুড়ে খেলা প্রায় স্থগিত হয়ে আছে। ফলে এদের জন্য বিসিবি কীভাবে খেলা বেশি বেশি আয়োজন করবে, সেটা চ্যালেঞ্জের বিষয়।

আরেকটা প্রতিকূলতা হলো, এই দলটিকে এখন পর্যন্ত মূল প্রধান কোচ নাভিদ নেওয়াজসহ বিদেশিদের ছাড়াই চলতে হচ্ছে। তবে সজল জানালেন, প্রস্তুতি ম্যাচগুলো শুরুর আগেই কোচসহ অন্যরা চলে আসবেন।