আসল চিত্র উঠিয়া আসা প্রয়োজন

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২০, ২১:২৪

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সিল-ছাপ্পর মারা অনুমোদন ব্যতীত কোনো মোটরযান আইনত দেশের কোনো সড়কে চলাচল করিতে পারে না। কিন্তু আইনত বিষয়ের সহিত বাস্তবতার দূরত্ব বাংলাদেশে অনেক বেশি। অননুুমোদিত কত লক্ষ যানবাহন সমগ্র দেশে চলাচল করিতেছে, তাহার সঠিক হিসাব খোদ বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের নিকটও আছে কি না সন্দেহ। ইতিপূর্বে যাত্রী কল্যাণ সমিতির তরফ হইতে জানা গিয়াছে, রাজধানীতে চলাচলকারী ৭৩ শতাংশ বাস-মিনিবাসই ফিটনেসবিহীন। তাহা বাহ্যিক দৃষ্টিতেও বুঝা যায়। অথচ এই সকল ভাঙাচোরা গাড়ির অধিকাংশের ফিটনেস সনদ আছে! দূরপাল্লার ৩৩ শতাংশ বাসেরও একই অবস্থা। এই কারণে দেশের মহাসড়কে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুমিছিল লাগিয়াই আছে। এমন কোনো দিন নাই যেই দিন দুর্ঘটনা ঘটে না। 

আমরা পত্রপত্রিকায় দেখিয়াছি, বিআরটিএ লইয়া অভিযোগের শেষ নাই। নিয়ম অনুযায়ী, ৫৯টি উপাদান পরীক্ষা করিয়া সেইগুলি গ্রহণযোগ্য মানে উত্তীর্ণ হইলে ফিটনেস সনদ পাওয়ার যোগ্য হয় একটি গাড়ি। কিন্তু সংবাদপত্রেই বিভিন্ন সময় ছাপা হইয়াছে যে, মাত্র কয়েক মিনিটেই ফিটনেস সার্টিফিকেট পাওয়া যায়, চোখের দেখাতেই কাজটি সারিতে হয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মোটরযান পরিদর্শকদের। ইহার কারণ হিসাবে বলা হয় যে, মিরপুর সার্কেলে বিআরটিএর একমাত্র ডিজিটাল ইন্সপেকশন সেন্টারে (ডিভিআইসি) প্রতিদিন একজন পরিদর্শককে ফিটনেস যাচাই করিতে হয় শতাধিক গাড়ি, যাহা কার্যত অসম্ভব। এই দিকে দেশে প্রতি বত্সরই বাড়িতেছে যানবাহনের সংখ্যা। স্বভাবতই বাড়িতেছে ফিটনেস সনদেরও চাহিদা। গাড়ির সংখ্যা ফি বত্সর বাড়িলেও মোটরযান পরিদর্শকের সংখ্যা বাড়িতেছে না। এই বত্সর জুন মাস পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিআরটিএ হইতে নিবন্ধন নেওয়া গাড়ির সংখ্যা ৪৪ লক্ষ ৭১ হাজার। ইহার বিপরীতে বিআরটিএতে মোটরযান পরিদর্শকের পদ ১২৫টি। বর্তমানে কর্মরত আছেন ১০৯ জন। এই হিসাবে প্রতি ৪১ হাজার গাড়ির বিপরীতে মাত্র ‘এক জন’ করিয়া মোটরযান পরিদর্শক কাজ করিতেছেন! স্বাভাবিকভাবেই এই সীমিত জনবল দিয়া বিপুল পরিমাণ মোটরযানকে নিয়ন্ত্রণ করা বিআরটিএর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জের। জানা গিয়াছে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় হইতে প্রেরণ করা ২ হাজার ৩১৫ জনবলবিশিষ্ট নূতন একটি কাঠামো অনুমোদনের অপেক্ষায় রহিয়াছে। ইহাতে মোটরযান পরিদর্শকের পদ রাখা হইয়াছে ১৩৩টি। আরো ১১১টি সহকারী মোটরযান পরিদর্শকের পদও রাখা হইয়াছে। তবে নূতন জনবলকাঠামো অনুমোদন পাইলেও মোটরযান পরিদর্শকের স্বল্পতা রহিয়া যাইবে বলিয়া মনে করিতেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা। দেশের বিদ্যমান চাহিদার বিপরীতে বিআরটিএতে অন্তত হাজারখানেক মোটরযান পরিদর্শক থাকিলে সমস্যা বহুলাংশে মিটিতে পারে।

মুশকিল হইল, জনবলে বিআরটিএ যেমন পিছাইয়া রহিয়াছে, তেমনি সড়ক পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ফিটনেস পরীক্ষার জন্য আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারেও পিছাইয়া রহিয়াছে। স্পষ্টতই, বিআরটিএর ব্যবস্থাপনা উন্নত করা আশু প্রয়োজন। কারণ, লোকবলের অভাবে কোনো গাড়ির ফিটনেসের প্রকৃত চিত্র ধরা না পড়িলে তাহা সকলের জন্যই বিপজ্জনক।