রোকসানা সুইটি
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের বেঁচে থাকার জন্য নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং এর সম্পর্কে জানাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিরাপদ খাদ্য আধুনিক জীবনে শিল্পজাত খাদ্য। এ খাদ্যকে স্বাভাবিক এবং ভেজাল ও অন্যান্য দূষণ থেকে নিরাপদ অবস্থায় বিতরণ এখন একটি বিশ্ব সমস্যা।
কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজি ছাড়াও নানা কারণে খাদ্য দূষিত হতে পারে। খাদ্য উত্পাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, খাদ্য গ্রহণ প্রক্রিয়ার যে কোনো পর্যায়ে শিল্পায়িত খাদ্য খাবারের অনুপযোগী হয়ে যেতে পারে।
খাদ্যশিল্পের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ব্যাপারে সচেতন করা এবং সেই সঙ্গে যারা এর সঙ্গে জড়িত ভেজাল খাদ্য ও উত্পাদিত খাদ্যসামগ্রী স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানসমূহকে এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য আধুনিক মান নির্ধারণ ব্যবস্থাপনা করতে আইনগতভাবে বাধ্য করা।
খাদ্য উত্পাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত উত্পাদিত খাদ্য বাজারজাত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের মোড়ক ব্যবহার করে থাকে সেই মোড়কগুলো কতটা স্বাস্থ্যকর তাও খতিয়ে দেখা জরুরি। কাঁচা খাদ্যসামগ্রীর ক্ষেত্রেও আমাদের সবার সচেতনতাই পারে সবাইকে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ এবং একটি সুস্থ জীবনের নিশ্চয়তা দিতে। ফসল কাটা থেকে খাদ্য গ্রহণ পর্যাপ্ত যে কোনো স্তরে তা রাসায়নিক দ্রব্যাদি ও জীবাণু দ্বারা বিষাক্ত বা দূষিত হতে পারে। কোনো দূষণ সৃষ্টিকারী দ্রব্য স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিপদ ডেকে নিয়ে আসবে কি না, সেদিকে সবার নজর রাখা উচিত।
দূষিত খাদ্য গ্রহণের জন্য রোগের মাত্রার গভীরতা ও ব্যাপকতা নির্ণয় করা কঠিন। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, ২০০৫ সালেই উদরাময় রোগে বিশ্বের ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। দূষিত খাদ্যগ্রহণ ও পানি পান করা এ ধরনের মৃত্যুর সিংহভাগ হবে। এছাড়া, শিশুদের অপুষ্টির একটি প্রধান কারণ উদরাময় রোগ।
শিল্পোন্নত দেশে খাদ্যবাহিত রোগের সংখ্যা প্রতি বছর ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে মর্মে তথ্য রয়েছে।
২০০৮ সালে চীনে প্রস্তুতকৃত কয়েকটি সংস্থার দূষিত গুঁড়া দুধ পান করে বহু শিশু রোগাক্রান্ত হয়। কারণ ঐ ধরনের শিশুখাদ্যে মেলামাইনের মাত্রা বেশি ছিল। বাংলাদেশেও এই দুধ আমদানির মাধ্যমে আসে। সম্ভাব্য বিপদ এড়ানোর জন্য সরকার ঐ দুধসহ উন্নত দেশের কয়েকটি দুধ আমদানি নিষিদ্ধ করে দেয়। এর ফলে আমদানিকারকেরা হাইকোর্টে মামলা করলে আদালতের নির্দেশে সব কটি ব্র্যান্ডের নিষিদ্ধ দুধ বিদেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর আমদানির জন্য কয়েকটি ব্র্যান্ডকে ছাড়পত্র প্রদান করে।
আমাদের দেশে প্রাণবৈচিত্র্যভিত্তিক কৃষির গুরুত্ব ক্রমশ তৈরি করছে। নয়া কৃষি, প্রাকৃতিক কৃষি, সবুজবাড়ি এসব বেসরকারি সংগঠনগুলো জৈব পদ্ধতিতে গ্রাম জনপদে উত্পাদন করছেন এবং খাদ্য উত্পাদনে প্রবলভাবে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী যখন নিরাপদ খাদ্যের লড়াই সমাজে জারি রাখছে তখন আমরা আশাবাদী হয়ে উঠি। আমাদের দেশে বর্তমান সময়ে দেখা যায় ফুটপাতেই বিভিন্ন ধরনের খাবারের পসরা সাজিয়ে বসে থাকে। এই খাবারগুলো কতটা অস্বাস্থ্যকর তা বলার অপেক্ষা থাকে না। চটপটি, ফুচকা, পিঠা, চিকেনফ্রাইসহ বিভিন্ন রকমের জুস যা কি না, কম খরচে অতি সহজে খুবই আগ্রহ সহকারে খেয়ে থাকে। এসব খাবার যে কতটা অস্বাস্থ্যকর তা অনেক শিক্ষিত মানুষও জেনে-বুঝে তা খেয়ে থাকে। স্বাস্থ্যই সব সুখের মূল এ কথাটা মনে রেখে আমাদের উচিত সচেতনতা বৃদ্ধি করা। নিজে সচেতন হই এবং অন্যকেও সচেতন হতে সহযোগিতা করি।
n লেখক :সাবেক শিক্ষার্থী, নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ
