সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল বেলারুশ

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২০, ০০:৪৬

আগেই বিক্ষোভ দমনে সেনা মোতায়েনের হুমকি দিয়ে রেখেছিলেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো। কড়া হাতে বিক্ষোভ মোকাবিলা করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তা সত্ত্বেও রবিবার বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানী মিনস্ক।

প্রেসিডেন্টের হুমকি উপেক্ষা করে রবিবার সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে বেলারুশে। সরকারিভাবে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর হিসাব জানানো হয়নি। তবে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ইন্ডিপেন্ডেন্টস স্কোয়ারে অন্তত লাখ দেড়েক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। দিন কয়েক আগে বিক্ষোভে লাখো মানুষ অংশ নেন। এবার সেই আকারও ছাড়িয়ে গেছে আগের জমায়েতকে। কিছু দিন আগেও কেউ ভাবতে পারেননি যে, বেলারুশে সরকারবিরোধী এত বড় বিক্ষোভ হতে পারে। তবে যার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ সেই প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো তার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা একটি ভিডিও আপলোড করেছে। সেখানে দেখা যায়, লুকাশেঙ্কো প্রেসিডেন্ট হাউজের চত্বরে একটি হেলিকপ্টার থেকে নামছেন। তার হাতে কালাশনিকভ অটোমেটিক রাইফেল।

এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, জাতীয় স্মারকগুলো রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। এসব ভবন, স্মারকের কাছে কোনোরকম নৈরাজ্য বরদাস্ত করা হবে না। এই স্মারকগুলো পবিত্র। সেনা মোতায়েনের খবরে বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ আরো বাড়ে। এতদিন শুধু পুলিশ মোতায়েন করা হতো। রবিবার থেকে সেনাও মোতায়েন করা হলো। তবে রবিবারের বিক্ষোভ ছিল শান্তিপূর্ণ।

বেলারুশ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এবং রাশিয়ার মধ্যেও কথার লড়াই চলছে। ইইউ বিক্ষোভকারীদের পক্ষে। ইইউর কূটনীতিক জোসেপ বরেল সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, বেলারুশকে দ্বিতীয় ইউক্রেন হতে দেওয়া যাবে না। লুকাশেঙ্কোর মোকাবিলা করা এ জন্যই জরুরি। রাশিয়া আবার ইইউকে সাবধান করে দিয়ে বলেছে, তারা যেন বেলারুশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে। যদি দরকার হয় রাশিয়া হস্তক্ষেপ করবে। ইইউ যা করছে তা গঠনমূলক তো নয়ই এবং তা আলোচনার পথও প্রশস্ত করছে না।