শরণার্থী শিবিরে শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে শিশুরা

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২০, ০০:৫৬

কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ থাকায় শিশুরা দুর্ভোগে পড়েছে বলে ইউনিসেফ জানিয়েছে। গতকাল সোমবার কাঠমান্ডু ও ঢাকা থেকে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অবিশ্বাস্য রকমের কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও শিবিরগুলোতে কোভিড-১৯ এর হুমকি ঠেকাতে ও সামাল দেওয়ার প্রচেষ্টায় শরণার্থী জনগোষ্ঠী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে।

ইউনিসেফ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক জিন গফ বলেন, বাংলাদেশে নির্বাসিত অবস্থায় থাকা এসব রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু এবং পরিবারগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়েছে। অকল্পনীয় কঠিন পরিস্থিতিতে তারা রয়েছে যা মৌসুমি বৃষ্টি ও বৈশ্বিক মহামারির কারণে আরো কঠিন হয়ে উঠেছে। এই কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও শক্তি, সাহস ও অধ্যবসায় কী তা পরিবারগুলো প্রতিদিনই আমাদের শিখিয়ে চলেছে।

কোভিড-১৯ মহামারি কক্সবাজার জেলায় বসবাসরত ৪ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শিশুর জীবনকে বাধাগ্রস্ত করে চলেছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো গত মার্চ থেকে শিবিরের শিক্ষাকেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা শিশু ও কিশোর-কিশোরী শিক্ষাকেন্দ্রের বাইরে রয়েছে। এমতাবস্থায় বাবা-মা ও সেবাদানকারীদের সম্পৃক্ত করে এবং ওয়ার্কবুক ও ভিজ্যুয়াল এইড প্রদানের মাধ্যমে বাড়িতে শিশুদের পড়াশোনায় সহায়তা করতে ইউনিসেফ ও সহযোগী সংস্থা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকরা একই সঙ্গে  কোভিড-১৯ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য এবং হাইজিনবিষয়ক বার্তা দেওয়ার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৭ শতাংশ শিশু বাড়িতে সেবাদানকারীদের তত্ত্বাবধানে পড়াশোনার কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিল। তবে অনেক বাবা-মা পড়তে ও লিখতে না পারাসহ উল্লেখযোগ্য অনেক বাধা এখনো রয়ে গেছে এবং ইউনিসেফ এসব শিশুদের পড়াশোনা ও তথ্যের সঙ্গে যুক্ত রাখার বিকল্প উপায় অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শিশুরা বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে চতুর্থ বর্ষে পা দিতে যাচ্ছে এবং এই পরিস্থিতিতে তাদের প্রত্যাবর্তন স্বপ্রণোদিত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই করতে প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করার ওপর জোর দেয় ইউনিসেফ। এছাড়া করোনার সময়ে প্রয়োজনগুলো আরো বেড়ে যাওয়ায় এবং একটি উন্নত ভবিষ্যতের জন্য শরণার্থী শিশুদের আশা ও স্বপ্নগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে কক্সবাজারের শরণার্থী ও বাংলাদেশি উভয় জনগোষ্ঠীর প্রতি উদার সমর্থন অব্যাহত রাখার জন্য ইউনিসেফ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের  প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।