উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের পিরামিড আকৃতির দৃষ্টিনন্দন আকাশচুম্বী ভবনটি বিশ্বের অনেকের কাছেই এক কৌতূহলের নাম। ১ হাজার ফুট উচ্চতার এই ভবনে রয়েছে তিন হাজার কক্ষ; শহরের সৌন্দর্য উপভোগের জন্যও এটি হতে পারত অনন্য এক জায়গা। ‘দ্য রাইউগিয়ং’ নামের হোটেলটি ১৯৮৭ সালে নির্মাণ শুরু হলেও আজো চালু হয়নি।
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার দুই বছরের মাথায় এটি চালু করার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। যদিও ভবনটির জানালাসহ কিছু কাজ তখনো বাকি ছিল। ১৬ বছর ধরে ভবনটি পড়ে ছিল জানালাবিহীন। হোটেলটির অবকাঠামোগত কাজ শেষ হলেও এসব কাজ বাকি থাকায় একসময় এটি পরিচিত হতে থাকে ‘হোটেল অব ডুম’ হিসেবে।
একসময় হোটেলটি কাচ দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। পরে পুরো হোটেলটিকে এলইডি লাইটের সাহায্যে দৃষ্টিনন্দন করে সাজিয়ে তোলা হয়। রাতের আঁধারে আলো জ্বলে উঠলে অন্যরকম এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয় হোটেলটিতে। আলোচিত এই হোটেলের নির্মাণকাজ বহুবার শুরু হয়ে বন্ধও হয়েছে, কিছুদিন পর আবার শুরু হয়েছে। এতদিনে চালু না হওয়া হোটেলটি নিয়ে তাই মানুষের মধ্যে কৌতূহল—আদৌ চালু হবে কি না এটি।
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধের ফসল হিসেবেও অনেকে আখ্যায়িত করে ‘দ্য রাইউগিয়ং হোটেল’টিকে। সেই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়াকে সমর্থন দিচ্ছিল। আর উত্তর কোরিয়ার পাশে ছিল রাশিয়া। ঐ সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রকৌশলীরা সিঙ্গাপুরে গড়ে তুলেছিল বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেল ‘দ্য ওয়েস্টিন স্টামফোর্ড’।
১৯৮৮ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের জন্যও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। এসব কারণে ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়ে উত্তর কোরিয়া। এর জবাবেই ১৯৮৯ সালের ওয়ার্ল্ড ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ আয়োজনের জন্য এই হোটেলসহ বড়ো বড়ো সব উন্নয়নকাজ শুরু করে উত্তর কোরিয়া। কিন্তু দেশটির শাসকগোষ্ঠীর অদূরদর্শিতার কারণেই হয়তো আজো চালু করা সম্ভব হয়নি হোটেলটি।—সিএনএন
