করোনায় ভাইরাসের সংক্রমণে সারা বিশ্ব যেখানে অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমাদের দেশে মানুষের মধ্যে করোনা সম্পর্কে উদাসীনতা এবং এক ধরনের তাচ্ছিল্য ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাসাবাড়িতে আত্মীয়স্বজনের আগমন, বিয়ে-বৌভাতসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে লোক সমাগম বেড়েই চলেছে। রাস্তাঘাটে চলাফেরায়, হাট-বাজারে যাতায়াতগামী লোকের সংখ্যা বাড়ছে। এই সব লোককে এখন আর মাস্ক পরতে দেখা যায় না। একই অবস্থা দেখা যায় রিকশা-ভ্যান-বাস-ট্রাক-পণ্য পরিবহন গাড়ি-ট্রেন-নৌকা-লঞ্চ-স্টিমারে গমনকারী লোকজনের মধ্যেও। দেখে মনেই হয় না যে করোনার মতো মারাত্মক এক অদৃশ্য ভাইরাস আমাদের প্রতিনিয়ত আক্রমণ করে চলেছে। লকডাউন চলাকালে মানুষের মধ্যে কিছুটা ভয় কাজ করেছে। এ কারণে অনেককেই মাস্ক পরতে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা গেছে। কিন্তু ইদানীং মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরের কথা, মাস্ক পর্যন্ত পরতে চায় না। করোনা সংক্রমণের হার তো কমেনি। বরং আমরা বর্তমান অবস্থায় অনেক বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। কারণ হচ্ছে পরিবহন সেক্টর চালু করা, একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সব অর্থনৈতিক খাত ও সরকারি অফিস খুলে দেওয়া। ফলে মানুষের সমাগম বাড়বে এটাই স্বাভাবিক; যেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু করার কথা বলা হয়েছে, সেখানে মাস্ক না পরা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা কতটা সমীচীন? সরকার সবার জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে পরিপত্র জারি করেছে। কিন্তু কে রাখে কার খবর? দয়া করে, আসুন সবাই মাস্ক পরি, করোনা প্রতিরোধ করি। নিজে নিরাপদে থাকি, অন্যকে নিরাপদে রাখি।
কামরুজ্জামান
সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল বিভাগ,
মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, ভাওয়ালগড়, গাজীপুর
