ত্যাগ স্বীকারে রাজি ফুটবলাররা

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২০, ২১:১০

স্পোর্টস রিপোর্টার

আসছে মৌসুমে অর্ধেক পারিশ্রমিকে খেলতে রাজি আছেন খেলোয়াড়রা। ফুটবলাররা বলছেন, তারা ত্যাগ স্বীকার করেই মাঠে নামবেন। আগামী অক্টোবরে নতুন মৌসুমের দলবদল চেয়ে নভেম্বরে মাঠে নামতে চান তারা। দেশের কয়েক হাজার ফুটবলার রয়েছেন তাদের পক্ষ হয়েই এ বক্তব্য  জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের। লিগ কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী জানালেন, এবছরই ফুটবল মাঠে গড়াবে।

বাফুফের লিগ কমিটির আমন্ত্রণে গতকাল বিকালে সভায় বসেছিলেন বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়রা। কমিটির চেয়ারম্যান ছাড়াও আব্দুর রহীম, জাকির হোসেন চৌধুরী, ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ প্রমুখ ছিলেন সেই সভায়। লিগ কমিটি ক্লাবগুলোর সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠক করেছে। আর গতকাল খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈঠক করার আগেও একাধিকবার বাফুফে সভাপতিসহ লিগের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।

ক্লাব এবং খেলোয়াড়দের আলোচনার মধ্যে মাঠের খেলা শুরু করার একটা তাগিদ আছে। তবে গতকালকের সভায় খেলোয়াড়রা পরিষ্কার করে তাদের মনের চাওয়াটা জানিয়েছেন লিগের কর্মকর্তাদের। ২০১৯-২০ প্রিমিয়ার লিগ পরিত্যক্ত হয়েছে। কয়েক রাউন্ড খেলার পর করোনার কারণে খেলা বাতিল করা হয়। খেলোয়াড়রা ২০১৯-২০ মৌসুমে চুক্তিবদ্ধ হওয়া পুরো পারিশ্রমিক চাইছেন। যেখানে খেলছেন অর্থাত্ এখন যে ফুটবলার যেখানে নিবন্ধিত রয়েছেন তারা আসন্ন ২০২০-২১ মৌসুমের জন্য সেখানেই খেলবেন। আর ২০১৯-২০ মৌসুমে যে পারিশ্রমিকে চুক্তি হয়েছিল নতুন মৌসুমে সেই পারিশ্রমিকেই চুক্তি হবে। খেলোয়াড়রা বলছেন, সেই ক্ষেত্রে নতুন মৌসুমের চুক্তির ৬০-৭০ ভাগ অর্থ দিয়ে দিতে হবে। ক্লাব এবং খেলোয়াড় চাইলে নতুন দলে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকবে। খেলোয়াড়রা মনে করছেন, তারা ফুটবলের জন্য ত্যাগ করছেন।

মামুনুল ইসলাম বললেন, ‘আমরা সভায় বলেছি আমাদের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছিল তার পুরো টাকাটা দেবে। আর নতুন মৌসুমের চুক্তির ৫০ কিংবা ৬০ ভাগ পারিশ্রমিক দিয়ে দেবে। এটা আমাদের কোনো দাবি নয়।  আমরা অনুরোধ করেছি। এটা নিয়ে বাফুফে ক্লাবগুলোর সঙ্গে কথা বলবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সেক্রিফাইজ করব। আশা করি, ক্লাবও সেক্রিফাইজ করবে। এখানে শুধু আমাদের নিয়ে নয়। ৪-৫ হাজার ফুটবলারদের নিয়েই আমরা কথা বলছি।’  জাতীয় দলের গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানা বললেন, ‘আমরা সেপ্টেম্বর কিংবা অক্টোবরে দলবদল চেয়েছি। যেন নভেম্বরে একটা ঘরোয়া টুর্নামেন্ট খেলতে পারি।’ মামুনুল বললেন, ‘সামনে বিশ্বকাপের খেলা রয়েছে। তার আগে যদি খেলোয়াড়রা ঘরোয়া ফুটবলে নামতে পারে দেশের জন্য ভালো কিছু আসতে পারে।’ সালাম মুর্শেদী জানিয়েছেন, তারা খেলোয়াড়দের কথা শুনেছেন এরপর আবারও ক্লাবগুলোর সঙ্গে খেলোয়াড়দের বিষয়গুলো নিয়ে বসবেন সেখানে একটা সিদ্ধান্ত হবে এমন আশা এই সাবেক তারকা স্ট্রাইকার সালাম মুর্শেদীর। তিনি বলেন, ‘এবছরই ফুটবল মাঠে গড়াবে।’ গতকাল কালকের সভায় ফিফা এবং এএফসির নিয়মনীতি মেনে ফুটবল খেলোয়াড় সমিতি এবং সাবেক ফুটবল খেলোয়াড় সমিতি গঠন করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সালাম মুর্শেদী এবং মামুনুল ইসলাম।