স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করেই সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা সংক্রান্ত চিঠি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদেরকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। তবে হাইকোর্ট ঐ চিঠির কার্যক্রম স্থগিত না করায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করেই এখন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।
গত ৪ আগস্ট স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। ঐ চিঠিতে বলা হয়, করোনা মহামারি প্রাদুর্ভাবের পরে দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যরা নানা বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করছেন। একটি হাসপাতালে একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করাতে হাসপাতালগুলোর স্বাভাবিক চিকিত্সা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং এ কারণে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানসমূহে এক ধরনের চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সার্বিক কার্যক্রম পরিবীক্ষণ করার জন্য একটি টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো অপারেশন পরিচালনা করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সঙ্গে পরামর্শক্রমে তা করা যাবে। এই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইয়াদিয়া জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।
