নির্মল রক্ষিত, পটুয়াখালী প্রতিনিধি
দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজিরহাট এলাকার দেড় কিলোমিটার বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ও তার ওপরে নির্মিত দেড় কিলোমিটার বিটুমিন কার্পেটিং সড়ক তেঁতুলিয়া নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। মাত্র দুই বছর আগে এলজিইডি উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রোথ সেন্টার থেকে দশমিনা সদর ইউনিয়নের হাজিরহাট পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার বিটুমিন কার্পেটিং সড়কটি নির্মাণ করে। ২০১৮ সালের মার্চে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। ব্যয় হয়েছিল ১০ কোটি টাকা। বেড়িবাঁধ-সড়কটি নদীগর্ভে বিলীন হতে থাকায় ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এলজিইডি দশমিনা উপজেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, কোস্টাল ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রকল্পের (সিসিআরআইপি) আওতায় দশমিনা হাজিরহাট এলাকার তেঁতুলিয়া নদী পাড়ের বেড়িবাঁধের ওপর বিটুমিন কার্পেটিং সড়ক নির্মাণ করা হয়। এলজিইডি দশমিনা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেন বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। তবুও যতদূর জেনেছি ২০১৮ সালে সড়কের নির্মাণ শেষ হয়। সমীক্ষা ও নির্মাণের সময় নদী অনেক দূরে ছিল। পরে তেঁতুলিয়া নদীর মাঝে চর পড়ায় স্রোত ঘুরে নাজিরপুরের দিকে প্রবাহিত হয় এবং দ্রুত ভাঙন দেখা দেয়। হাজীর হাট এলাকার কয়েক জন জানান, এই বাঁধ তাদের ফসল জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করে আসছে। বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ করায় সড়ক পথেও যোগাযোগ সহজ হয়েছে। তবে তেঁতুলিয়া নদীর গ্রাসে বাঁধ ভাঙছে, বিলীন হচ্ছে সড়কটি। বর্তমানে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা জলবায়ু ফোরামের সভাপতি জি এম রায়হান বাদল জানান, অপরিকল্পিতভাবে সড়কটি নির্মাণ করার ফলে দুই বছরের মাথায় এসে সড়কটির অর্ধেক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সড়কটি নির্মাণের সময়ই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। দশমিনা ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, এমনিতেই তেঁতুলিয়া নদীর স্রোত প্রবল। তার ওপর বেড়িবাঁধটি পুরোনা এবং নদীভাঙনে বাঁধটি নদীর কাছাকাছি চলে এসেছে। এই অবস্থায় নদীতে প্রতিরক্ষা বাঁধ না দিয়েই বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে ১০ কোটি টাকার সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। হুমকির মুুখে রয়েছে ইউনিয়নের কাউনিয়া, হাজিকান্দা, কাজীকান্দা, পূর্ব দশমিনা, পূঁজাখোনা এই পাঁচটি গ্রাম। পানি উন্নয়ন বোর্ড, পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, ২০১০ সালে বেড়িবাঁধটি নির্মিত হয়। পরে বাঁধের ওপর এলজিইডি সড়ক নির্মাণসহ রক্ষাবেক্ষণ করছে। তারপরও যেহেতু বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে, এ কারণে বিকল্প বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
