এবার নজরে ৭০০!

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২০, ২১:৩৩

দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

তাকে এক সময় বলা হতো—ক্রিকেটের ডেভিড বেকহ্যাম!

নিত্যনতুন চুলের স্টাইল, চোখ ধাঁধানো সব পোশাক এবং মডেল স্ত্রী; মিলটা একেবারে কম নয়। কিন্তু তিনি বেকহ্যামের নামে নিচে চাপা পড়ে থাকা মানুষ নন। নিজেই এক মহিরুহে পরিণত হয়েছেন—জেমস মিখাইল অ্যান্ডারসন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সাউদাম্পটন টেস্টে জিমি অ্যান্ডারসন অর্জন করেছেন অনন্য এক মাইলফলক, ছুঁয়েছেন অনন্য এক চূড়া; যেখানে আগে পৌঁছাতে পারেননি কোনো ফাস্ট বোলার। প্রথম পেসার হিসেবে ৬০০ টেস্ট উইকেট তুলে নিয়েছেন। বিশ্বের মাত্র চতুর্থ বোলার হিসেবে এই অর্জন করেছেন তিনি।

একটা গুঞ্জন ছিল যে, ৬০০ উইকেট হয়ে গেলে অবসর নিয়ে নেবেন ইংল্যান্ডের এই সিনিয়র ফাস্ট বোলার। বয়স তো একেবারে কম হলো না। ৩৮ পার করে ফেলেছেন। কিন্তু জিমি অন্যরকম ভাবছেন। তার চোখ এখন ৭০০-এর দিকে। আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ খেলতে যেতে চান এবং পরিষ্কার বললেন, ৭০০ টেস্ট উইকেটও সম্ভব তার পক্ষে— ‘আমি ৭০০ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারব কি না? কেন নয়?’

আগামী বছর অস্ট্রেলিয়া সফরে যে যেতে চান, সেটা নিয়ে কোনো লুকোছাপা নেই। পরিষ্কার বললেন, এ নিয়ে তিনি অধিনায়কের সঙ্গে কথাও বলে ফেলেছেন, ‘আমি এ ব্যাপারে জো রুটের সঙ্গে সামান্য কথা বলেছি। ও বলেছে যে, ও আমাকে অস্ট্রেলিয়ায় (অ্যাশেজ সফরে) চায়। আমি এরকম কোনো কারণ দেখি না যে, আমি কেন যেতে পারব না। আমি আমার ফিটনেস নিয়ে সবসময় কাজ করছি। নিজের খেলা নিয়ে কাজ করছি।’

অনেকে ভাবছেন, ৩৮ বছর বয়সি অ্যান্ডারসন এখন ক্লান্ত। কিন্তু তিনি নিজে বলছেন, এখনো তার খেলাটাকে কিছু দেওয়া বাকি, ‘এই মৌসুমে যতটা করতে চেয়েছিলাম, অত বল তো করতে পারিনি। তবে এই টেস্ট ভালোই করেছি। এখন আমার মনে হচ্ছে, আমার দলকে আরো কিছু দেওয়ার আছে। আমি যতক্ষণ এরকম অনুভব করছি, ততক্ষণ চালিয়ে যাব। আমি মনে করি না যে, আমি ইংল্যান্ডের হয়ে আমার শেষ ম্যাচ জিতে ফেলেছি।’

আসল ব্যাপারটা হলো—খেলাটা উপভোগ করছেন কি না। অ্যান্ডারসন বলছেন, ঠিক আগের মতোই উপভোগ করছেন তিনি, ‘আমি এখনো রোজ ট্রেনিংয়ের জন্য তৈরি হওয়া, কঠিন পরিশ্রম করা এবং ইংল্যান্ডের হয়ে একটা জয়ের জন্য লড়াই করাটা উপভোগ করছি। আর এসবই আমি আমার সারা জীবনে গুরুত্ব দিয়ে এসেছি। এটাই আমি করে যেতে চাই। আমি জিমে কঠোর পরিশ্রম করব এবং নিজেকে খেলার জন্য প্রস্তুত রাখব।’

তবে এটা পরিষ্কার যে, আরো বছর খানেক খেলতে গেলে আরো একটু বেছে খেলতে হবে এই টেস্ট ক্রিকেটারের। সেটা স্বীকার করলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে, কোনটা খেলব, কোনটা খেলব না, এটা বিচার করাটা একটু বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তবে এটা আসলে নির্বাচক, কোচ, অধিনায়ক ও মেডিক্যাল টিমের ওপর নির্ভর করে। এটা তো আমার বলা ঠিক না যে, আমি এই ম্যাচটা খেলব, আর এটা খেলব না। আমরা বিশ্বের সেরা দলটা মাঠে নামাতে চাইব এবং খেলোয়াড়দের পরিশ্রমের চাপটা ম্যানেজ করতে চাইব। দলের কীসে ভালো হয়, সেটা নিশ্চয়ই আমরা আলোচনা করব।’

অ্যান্ডারসন স্তুতি

অভিনন্দন, জিমি। কী অসাধারণ একটা রেকর্ড। তোমার শক্তি আরো বাড়ুক।

—স্যার ভিভ রিচার্ডস

চ্যাম্পিয়ন বোলার জেমস অ্যান্ডারসন। প্রথম ফাস্ট বোলার হিসেবে ৬০০ উইকেটে পৌঁছানোর জন্য অভিনন্দন। কঠিন পরিশ্রম, আবেগ এবং হার না মানা মানসিকতাই তোমার ক্যারিয়ারের প্রতীক।

—ওয়াসিম আকরাম

জিমির কী অসাধারণ অর্জন! এই প্রাপ্তিতে অনেক অভিনন্দন। টেস্ট ক্রিকেটে ৬০০ উইকেট এবং ১৭ বছরের ক্যারিয়ার একজন ফাস্ট বোলার হিসেবে তোমার আবেগ, লড়াই ও নিখুঁত বোলিংয়ের প্রমাণ।

—শচীন টেন্ডুলকার

জিমির অবিশ্বাস্য ৬০০। কী অসাধারণ এক অর্জন। সেই সঙ্গে ১৫৬ টেস্ট খেলাটাও একজন মিডিয়াম ফাস্ট বোলারের জন্য কম অর্জন নয়।

—শোয়েব আখতার

৬০০ উইকেটের অসাধারণ এই অর্জনের জন্য জিমিকে অভিনন্দন। অবশ্যই আমার সামলানো অন্যতম সেরা বোলার।

—বিরাট কোহলি