আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মত উপেক্ষা করে দল নিবন্ধন আইন

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২০, ২২:০২

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতামত উপেক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ ‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন’ অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল বুধবার কমিশন সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। যদিও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) কিছু অংশ আলাদা করে নতুন ‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন’ প্রণয়ন নিয়ে কমিশন সভায় আপত্তি জানিয়েছেন দুই জন কমিশনার। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। এছাড়া সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারপ্রতিষ্ঠানের নাম ও এর জনপ্রতিনিধিদের পদবি বদলের প্রস্তাবের বিপক্ষেও মত দিয়েছেন একাধিক নির্বাচন কমিশনার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে গতকাল বুধবার নির্বাচন ভবনে কমিশনের ৭০তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চার কমিশনার, ইসির সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। সভায় রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন, ২০২০-এর বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের জন্য তোলা হয়। এর আগে আরপিও থেকে পৃথক করে নতুন আইনটির খসড়ার ওপর নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মতামত চাওয়া হয়। এতে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল নতুন আইন প্রণয়নে বিরোধিতা করে।

নোট অব ডিসেন্টে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার উল্লেখ করেন, আরপিও এর অংশবিশেষ নিয়ে পৃথকভাবে আইন প্রণয়ন হটকারী সিদ্ধান্ত। আমি আগেও বলেছি, আরপিও একটি ঐতিহাসিক আইনগত দলিল, যা বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার অনন্য স্মারক। নির্বাচন কমিশনের এই প্রস্তাব গৃহীত হলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ’৭২-এর অঙ্গহানি ঘটবে, যাতে একে বিকলাঙ্গ মনে হবে।

তিনি আরো বলেন, আইনটি মতামত যাচাইয়ের পূর্বে অধিকতর যাচাইবাছাই ও এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনে আরো আলোচনার প্রয়োজন ছিল। দেশের অন্যতম বৃহত্ দুটি রাজনৈতিক দলসহ অন্যান্য দলও এই আইন প্রণয়নের বিরোধিতা করেছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আইনের খসড়া উত্থাপনের পর আইন সংস্কার কমিটির প্রধান হিসেবে কবিতা খানম এর ওপর তার মতামত তুলে ধরেন। তিনি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনে নতুন আইন করার পক্ষে মত দেন। এরপর বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী স্বতন্ত্র আইন তৈরিতে আপত্তি জানান। তিনি আরপিওতে এসংক্রান্ত ধারায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার প্রস্তাব দেন। এছাড়া তিনি খসড়া আইনে দলের গঠনতন্ত্র, নাম ও সিলমোহরে রাষ্ট্রবিরোধী কিছু থাকতে পারবে না—এমন প্রস্তাবের প্রশ্ন তুলে বলেন, কোনটি রাষ্ট্রবিরোধী বা রাষ্ট্রের পক্ষের, সেই সিদ্ধান্ত ইসি দিতে পারবে কি না? নতুন আইন করতে হলে স্টেকহোল্ডারদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম স্বতন্ত্র আইন করার পক্ষে প্রস্তাব দেন।

কমিশন সভার পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর। তিনি বলেন, ‘কমিশন সভায় সংশোধনীসহ খসড়া আইন অনুমোদন করা হয়েছে। শব্দগত ও ভাষাগত পরিবর্তন ও সংযোজন-বিয়োজন করার জন্য কমিশন ইসি সচিবালয়কে সময় দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে এসব সংযোজন-বিয়োজন করে খসড়া আকারে তাদের কাছে আবার উপস্থাপন করব।’