ফরিদপুর ছাত্রলীগের সভাপতি শামীমের দোষ স্বীকার

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২০, ২২:১৫

২ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহামুদ শামীম আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল বুধবার তিন দিনের রিমান্ড শেষে শামীমকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এএসপি) উত্তম কুমার সাহা। এ সময় আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারী তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে গত শনিবার তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।  ২১ আগস্ট  ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে সিআইডির (ঢাকা) একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানায়, মানি লন্ডারিং আইনে সিআইডির পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার পলাতক আসামি ছিলেন তিনি। তাকে দীর্ঘদিন ধরে খোঁজা হচ্ছিল।

গত ১৬ জুন রাতে ফরিদপুর শহরের মোল্লাবাড়ি সড়কে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সুবল চন্দ্র সাহা গত ১৮ জুন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। গত ৭ জুলাই পুলিশের বিশেষ অভিযানে সুবল সাহার বাড়িতে হামলার মামলায় গ্রেফতার হন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত, তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ আরো সাত জন।

এরপর বরকত ও রুবেলের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে তদন্তে নামে সিআইডি। তদন্তে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার কোটি টাকা অবৈধ উপায়ে অর্জন ও পাচারের তথ্য পাওয়া গেলে গত ২৬ জুন শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে প্রধান আসামি করে অবৈধ উপায়ে ২ হাজার কোটি টাকা আয় ও পাচারের অভিযোগে ঢাকার কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করে সিআইডি।