নিম্ন আদালতের রায় অনুসারে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি ইউনিপেটুইউর এক বিনিয়োগকারীর অর্থ বিতরণের প্রশ্নে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে অর্থসচিব, আইনসচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগ, ইউনিপেটুইউসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ভার্চুয়াল ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন।
দুদক ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি ইউনিপেটুইউর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে। ঐ মামলায় গত বছরের ২৩ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন ইউনিপেটুইউর চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ মোট ছয় কর্মকর্তাকে ১২ বছর করে কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাদের ২ হাজার ৭০২ কোটি ৪১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৪ টাকা ১৪ পয়সা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রায়ে বলা হয়, তিনটি হিসাব নম্বরের বিপরীতে সর্বমোট ৪২০ কোটি ১৪ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৩ টাকা জব্দ করা আছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, দেশের লাখ লাখ জনসাধারণের আমানতের একটি ক্ষুদ্র অংশ উক্ত অবরুদ্ধ টাকা। উক্ত টাকা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের শনাক্তক্রমে তাদের তালিকা প্রস্তুত করে ন্যায়সংগতভাবে তা ফেরত দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
এই রায় অনুসারে টাকা ফেরত না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট করেন মিরপুর-১০-এর বাসিন্দা বিনিয়োগকারী মো. মনজুর হোসেন। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে। রুলে ঐ রায় অনুসারে ইউনিপেটুইউতে এই বিনিয়োগকারীর ৩ কোটি ৫ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা ২০১০ সালের নভেম্বর থেকে সুদসহ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জিয়াউল হক ও সাইফুজ্জামান তুহিন।
