করোনার কারণে বাংলাদেশের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে লম্বা বিরতি পড়েছে। আশার কথা অক্টোবরে শ্রীলঙ্কা সফর দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবে বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ দল। জাতীয় দলের সঙ্গে এইচপি স্কোয়াডও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে পা রাখবে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্যাম্প ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
তবে করোনার প্রভাব সহজে কাটছে না নারী ক্রিকেটে। সালমা খাতুন, রুমানা আহমেদ, জাহানারা আলমদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সহসা মাঠের ক্রিকেটে ফেরা হচ্ছে না তাদের। নভেম্বরের আগে নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। করোনা পরিস্থিতিই এর মূলে। আপাতত ঘরোয়া ক্রিকেট দিয়েই নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচে ফেরানোর চিন্তা করছে বিসিবি। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন হেড কোচ পেতে পারেন জাহানারা-রুমানারা।
বিসিবির উইমেন্স উইংয়ের চেয়ারম্যান শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেছেন, করোনা পরিস্থিতির ওপর সবকিছু নির্ভর করছে। করোনার কারণে কিছুই করা যাচ্ছে না। নতুন করে সবকিছু শুরুর পরিকল্পনা করা আছে। করোনার উন্নতি হলে দ্রুত ঘরোয়া টুর্নামেন্ট শুরু করবে বিসিবি।
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর নারী দল দেশে ফিরেছিল গত ফেব্রুয়ারিতে। তার পর থেকে ক্রিকেটের বাইরে নারী ক্রিকেটাররা। করোনার প্রকোপ শুরু হলে প্রায় ৫ মাস ঘরবন্দী থেকেছেন রুমানারা। চলতি মাসের শুরু থেকে বিসিবির ব্যবস্থাপনায় দেশের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুশীলন করছেন লতা মন্ডল-নাহিদা আক্তাররা। যদিও আগামী দুই মাসেও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন না তারা।
করোনাকালেই মুমিনুলরা, এইচপি দল শ্রীলঙ্কা যাচ্ছে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের আবাসিক ক্যাম্প হচ্ছে। নারী ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরানোর পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে গতকাল শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেছেন, ‘আমরা আসলে ঘরোয়া ক্রিকেট দিয়েই ফিরতে চাই। এভাবেই আমাদের একটা পরিকল্পনা করা আছে। স্কুল ক্রিকেট শুরু করব, অনূর্ধ্ব-১৯ দল থাকবে। সবকিছু নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর। আমার যেটা অনুমান নভেম্বরের আগে মনে হয় না কিছু করা যাবে।’
ভারতীয় আঞ্জু জৈনের বিদায়ের পর নতুন হেড কোচ নিয়োগ হয়নি নারী দলের। উইমেন্স উইংয়ের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা আশা করছি সামনের মাসে ঠিক হয়ে যাবে। এক মাসের মধ্যেই আমরা কনফারম করতে পারব। ইউরোপিয়ান কোচ হতে পারে।’
নারী ক্রিকেটারদের বেতন, ম্যাচ ফি বাড়ার ঘোষণা আসতে পারে আগামী বোর্ড সভা থেকেই। তবে ২২ গজে ম্যাচ খেলার জন্য সালমা-রুমানাদের অপেক্ষা করতে হবে নভেম্বর পর্যন্ত।
