দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক সোনালী ব্যাংক। তবে এই ব্যাংকে এখন মাত্র ৯ জন মহাব্যবস্থাপক (জিএম) রয়েছেন, যেখানে প্রবিধানমালায় ৩০ জন জিএম থাকার কথা। ফলে ব্যাংকের স্বাভাবিক অনেক কার্যক্রম পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আবার জিএমের নিচের পদ ডিজিএমকে স্পেশাল পাওয়ার দিয়ে অনেক কাজ সারতে হচ্ছে। আর একটি প্রমোশনের পরে পরবর্তী প্রমোশন পাওয়ার জন্য যে তিন বছর সময় অপেক্ষা করতে হয়, সেই বিধানের কারণে শিগিগর এই সমস্যা কাটবে না ব্যাংকটির।
এদিকে আগামী মাস সেপ্টেম্বর থেকেই এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করবে সোনালী ব্যাংক। এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনার জন্য এর আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পেয়েছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী মাস থেকে এই ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু করতে পারবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে ২০১৯ থেকে ২০২০ সালের বর্তমান সময় পর্যন্ত তুলনামূলক একটি আর্থিক চিত্র প্রকাশ করেন তিনি। ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কয়েক জন মহাব্যবস্থাপক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আতাউর রহমান প্রধান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি খাত নিয়ে দ্রুতগতিতে কাজ করছে সোনালী ব্যাংক। করোনাকালীন পাঁচ মাসে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে সোনালী ব্যাংক পাঁচ বছর এগিয়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি। এরই মধ্যে ব্যাংকের ১ হাজার ২২৪টি শাখায় অনলাইন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ক্যাশলেস লেনদেনব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড ও অ্যাপসভিত্তিক লেনদেনব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকে না গিয়েও যাতে গ্রাহক সব ধরনের লেনদেন ও সেবা পেতে পারে, আমরা সেই কার্যক্রম বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
সোনালী ব্যাংকের এমডি বলেন, করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি খাতকে সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে কাজ করছে এই ব্যাংক। শিল্প খাতে বরাদ্দের ১৬২০ কোটি টাকার ৭২ ভাগই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে দেওয়া ১ হাজার কোটি টাকা। সরকারের ঘোষিত ১ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে অন্যান্য ব্যাংকের পাশাপাশি সোনালী ব্যাংক লিমিটেড কাজ করছে।
আর্থিক তথ্য তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, গত এক বছরে সোনালী ব্যাংকের শ্রেণিকৃত লোন ১ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা কমেছে। জুলাই শেষে সোনালী ব্যাংকের শ্রেণিকৃত লোন ছিল ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। এ বছরের জুলাই মাসের শেষে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ১২০ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪৬৭ কোটি টাকা। ব্যাংকের আমানত ১ লাখ ১২ হাজার ৩৬৭ কোটি থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩৩ কোটিতে পৌঁছেছে। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির লোকসানি শাখা ৫৮টি থেকে কমে ৫০টিতে নেমেছে। নতুন শাখা খোলা হয়েছে ১০টি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্যাংকের এমডি জানান, হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর তেমন কোনো বড় অনিয়ম হয়নি। তবে এখনো পর্যন্ত হলমার্কের কাছ থেকে উল্লেখ করার মতো টাকা আদায় করা সম্ভব হয়নি। আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় এখন আদায় করা যাচ্ছে না।
