স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ কর্মস্থল প্রয়োজন

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২০, ২১:৪৬

বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যেখানে নার্সের তুলনায় চিকিত্সকের সংখ্যা বেশি। এতে সেবা গ্রহীতা ও দাতা উভয়কেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। সরকার দুই দফায় ২০১৬ ও ২০১৮ সালে ১৫০০ নার্স নিয়োগ দেয়। এই করোনাকালে নিয়োগ দেওয়া ৫০৫৪ জন নার্স নিয়ে বর্তমানে নার্সের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৭০৭৭ জন। এ সংখ্যা খুবই নগণ্য। স্বাস্থ্যখাতে জড়িতদের মধ্যে চিকিত্সক, নার্স, মিডওয়াইফ, টেকনেশিয়ান, ফিজিওথেরাপিস্ট, স্বাস্থ্য সহকারী, এফডাব্লিউভি, সিএইচসিপি সরাসরি সেবা দিয়ে থাকেন রোগীদের। তাই নানা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে হয় তাঁদের। নার্সরা শিফট ভাগ করে সেবা দেন। যেহেতু বেশিরভাগ সময় রোগীর কাছে নার্সরা বেশি থাকেন, তাই তাঁদের ঝুঁকিও বেশি। এখানে ঝুঁকি বলতে: ক) বায়ুবাহিত রোগগুলো রক্তের মাধ্যমে ছড়ানো রোগ এবং সংক্রামক রোগগুলোতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা। খ) অতিরিক্ত রোগীর কারণে সব রোগীকে সমানভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে রোগীর স্বজন কর্তৃক নিপীড়িত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হাসপাতালগুলোতে যৌন হয়রানির ঘটনা বাড়ছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী যখন এসব ঝুঁকির মধ্যে পড়েন, তখন কিন্তু এর দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারেন না। নিরাপদ ও ঝুঁকিবিহীন কর্মস্থল একজন কর্মচারী বা কর্মকর্তার মৌলিক অধিকার।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে কী ধরনের স্বাস্থ্যসেবা বিদ্যমান, তাদের সীমাবদ্ধতা ও জনবল সংকট—এইসব সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার না। তাই তারা সব ধরনের সেবা পেতে চায়—সেখান থেকে তৈরি হয় বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল। এজন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন ও ঝুঁকিভাতা চালু এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। আমাদের প্রস্তাব হলো—

১.হামলাকারীদের তাত্ক্ষণিক শাস্তির বিধান রেখে তদন্ত সাপেক্ষে ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় এনে উচ্চ আদালতে বিচারকার্য চালানো। বিশেষজ্ঞ কমিটি দিয়ে বিএমডিসি বা বিএনএমসির তত্ত্বাবধানে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা।

২. সেবা প্রদানকারীদের জন্যে নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় বিবরণ এ আইনে থাকবে। পেশাগত কারণে যারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বেন, তাঁদেরসহ সবার জন্য ঝুঁকিভাতা চালু করা।

৩. মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যৌননিপীড়নবিরোধী কমিটি করা।

বর্তমান সরকারের আমলে স্বাস্থ্যখাতের উন্নতি প্রশংসনীয় এবং দৃশ্যমান। যেহেতু স্বাস্থ্যখাতে জড়িত অধিকাংশই নারী, তাই তাঁদের নিরাপদ কর্মস্থল আর ঝুঁকিভাতা নিশ্চিত করলে স্বাস্থ্যসেবা ত্বরান্বিত হবে।

ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দীন

নার্সিং কর্মকর্তা,

২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, কক্সবাজার