মজুতদার, মুনাফাখোর আর অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে দেশের সাধারণ মানুষ এক কথায় ভোক্তাগণ আর্থিক ও শারীরিক দিক থেকে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অহেতুক মূল্য বৃদ্ধি, নকল ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্য বিক্রি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রচুর অর্থ আয় করে। আর ভোক্তারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন। ভেজাল খেয়ে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। মাঝেমাঝে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেজালবিরোধী অভিযান চালানো হয়। দোষী ব্যক্তিদের জরিমানা করা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। অবস্থা দু-একদিন একটু ভালো থাকে, তারপর আগের মতোই শুরু হয়। এই অবস্থা থেকে নিস্তার পেতে হলে নিয়মিত বাজার মনিটর করা দরকার। প্রতিমাসে কমপক্ষে ৪ দিন বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালাতে হবে। দোষী ব্যক্তিদের দীর্ঘ মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দিতে হবে। অর্থদণ্ড দিয়ে ভেঙে দিতে হবে তাদের আর্থিক মেরুদণ্ড । দেশে ভোক্তা সংরক্ষণ আইন রয়েছে। সেই আইনে দোষী ব্যক্তিদের সাজা ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৩ বছর জেল আর জরিমানা ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত করার নিয়ম আছে। এটা বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুব একটা বেশি নয়। জেলা প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাদের পক্ষে সব সময় ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। তাই ভোক্তা বিষয়ক একটা মন্ত্রণালয় সৃষ্টির জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। এই মন্ত্রণালয়ের উপজেলা পর্যন্ত অফিস থাকবে। তারা উপজেলা পর্যায়ের বাজারগুলোতেও অভিযান পরিচালনা করবে। আশা করি, বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।
মো. মুরশীদ আলম
জলেশ্ব্বরীতলা, পৌরসভালেন, বগুড়া
