যশোরের চৌগাছায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে ড্রাগন ফল। লাভজনক হওয়ায় এখানকার চাষিরা এখন ড্রাগন চাষে ঝুঁকছেন। মূলত স্থানীয় উদ্যোক্তা ইসমাইল হোসেনের সফলতার পথ ধরেই ড্রাগন চাষের প্রতি আগ্রহী হয়েছে এলাকার অনেক কৃষক। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এরই মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হচ্ছে।
উপজেলার তিলকপুর গ্রামের একছের আলীর ছেলে ইসমাইল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে চাকরি নেন একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে। অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়ে থাই পেয়ারা, আপেল ও বাউকুলের বাগান করেন তিনি। নতুন কিছু করার চিন্তায় ইন্টারনেট থেকে ড্রাগন চাষ সম্পর্কে জেনে এই চাষে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। ২০১৫ সালে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারা এনে নিজের দুই বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেন। বর্তমানে ১০ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ রয়েছে তার। তিনি জানান, প্রতি বছর প্রতি একর বাগান থেকে বছরে প্রথম পর্যায়ে ৬/৭ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করা সম্ভব। এছাড়া চারা বিক্রি করে আরো কয়েক লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। তার মতো আরো কয়েক জন কৃষক জানান, ড্রাগন চাষের মাধ্যমে ভালো লাভ করা সম্ভব।
সিংহঝুলী গ্রামের প্রবাসফেরত মিঠু জানান, বাজারে ড্রাগন ফলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ড্রাগন একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় তিনি ৯ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করেছেন। বাগানের বয়স এক বছর হয়েছে।
চাষিদের সঙ্গে আলাপ করলে জানান, ভেষজ জাতীয় এ ফল অত্যন্ত সুস্বাদু। এই ফল চাষ করার জন্য জৈব সারই যথেষ্ট। অতিরিক্ত অন্য কোনো সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। এছাড়া বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা বাগানে এসে কিনে নিয়ে যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দীন বলেন, চৌগাছা এলাকা ড্রাগন চাষের জন্য উপযোগী। উপজেলায় ৭০ থেকে ৮০ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান রয়েছে। লাভজনক হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ করার জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে চাষিদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
