এবার জেএসসি জেডিসি পরীক্ষাও বাতিল

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২০, ২২:০০

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার পর এবার চলতি বছরের অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির পর এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এ বিষয়ে প্রস্তাবনা তৈরি করতে শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। 

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষা সমাপনী ও অষ্টম শ্রেণির জেএসসি, জেডিসি পরীক্ষায় ৫০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের কথা ছিল। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার পরীক্ষা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত নিল। এই সিদ্ধান্তের পর অন্তত ১ কোটি অভিভাবকের পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর হলো।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত :করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আরো বাড়িয়েছে সরকার। গতকাল এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ সময় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থানের নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

এসংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, বন্ধের সময় শিক্ষার্থীদের নিজেদের বাসস্থানে অবস্থানের বিষয়টি অভিভাবেকরা নিশ্চিত করবেন। স্থানীয় প্রশাসন তা নিবিড়ভাবে পরিবীক্ষণ করবে। শিক্ষার্থীরা যাতে বাসস্থানে অবস্থান করে নিজ নিজ পাঠ্যবই অধ্যয়ন করে, সে বিষয়টি প্রধান শিক্ষকেরা তাদের সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের মাধ্যমে নিশ্চিত করবেন।কীভাবে হবে অন্যান্য শ্রেণির মূল্যায়ন :সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলে কীভাবে পরীক্ষা হবে, সে নিয়ে কাজ করেছিল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করা গেলে ৭৩ দিন সময় পাওয়া যেত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেপ্টেম্বর পুরো মাস বন্ধ থাকছে।

অক্টোবর থেকে কীভাবে সিলেবাস কমিয়ে পরীক্ষা নেওয়া যায়, সেটি নিয়েও কাজ করেছিল এনসিটিবি। সর্বনিম্ন ৩০ দিন শ্রেণি কার্যক্রম চালানো সম্ভব হলে পাঠ্যবইয়ের কতটুকু অংশ পড়ানো হবে, তা চিহ্নিত করা হয়েছে। চিহ্নিত করা হয়েছে ৫০ কর্মদিবস সময় পেলে কতটুকু পড়ানো যাবে। অক্টোবরে স্কুল খুললে ৫০ দিন এবং নভেম্বরে স্কুল খুললে ৩০ কর্মদিবস পাওয়া যেত।

তবে নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচি সংক্ষিপ্ত করা হবে না। কারণ এ দুই শ্রেণিতে একই বই পড়ানো হয়। নবম শ্রেণিতে এ বছর যেটা পড়ানো সম্ভব হবে নয়, সেটা দশম শ্রেণিতে শেষ করা হবে।

তবে করোনার সংক্রমণে অক্টোবরেও যদি স্কুল খোলা না যায়, খোলা সম্ভব না হয় যদি নভেম্বরেও, তাহলে কী হবে? এ বিষয়টি নিয়েও নানা প্রশ্ন অভিভাবকদের। করোনা পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক না হয়, সেক্ষেত্রে মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণের বিষয়ে বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি কী হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করতে নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। গতকাল এক সভায় এ নির্দেশনা দিয়ে পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণের ক্ষেত্রে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের হাতে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তারা যে কোনোভাবে মূল্যায়ন করে শিক্ষার্থীদের নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণের সুযোগ করে দেবেন।

গতকাল এক অনুষ্ঠানে এক ছাত্রীর বক্তব্য শোনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যা কিছু করছি সব তোমাদের জন?্য, ভবিষ?্যত্ প্রজন্মের জন?্য। এখন করোনাকাল চলছে। তোমরা স্কুল করতে পারছ না। তার পরও বই আছে। তোমরা ভালো করে পড়াশোনা করো। পরীক্ষা তো হবে না, হয়তো প্রমোশন দিতে হবে। আমরা দেখছি কী করা যায়।’ সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠান চালু করা গেলে বার্ষিক পরীক্ষা হবে। নইলে সরাসরি উত্তীর্ণ করে দেওয়া হতে পারে।

এইচএসসি পরীক্ষা :গত এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগস্টের শেষে এসেও এই পরীক্ষা নেওয়া যায়নি। কবে নেওয়া যাবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। শুধু বলা হচ্ছে, পরীক্ষা শুরুর ১৫-২০ দিন আগে পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ১৫-২০ দিন পর এই পরীক্ষা হবে। ১৪ লাখ পরীক্ষার্থীর এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি এক আলোচনায় বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরিস্থিতি হয়নি। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর মার্চ মাসের আগে সাধারণত ক্লাস শুরু হয় না। আমরা যদি ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভর্তি সম্পন্ন করতে পারি, তাহলে যারা এবার এইচএসসি পরীক্ষা দেবে তাদের এক দিনও সময় নষ্ট হবে না বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বা ক্লাসের ক্ষেত্রে।’

কওমি মাদ্রাসা খোলার আদেশ :কওমি মাদ্রাসার কিতাব বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু ও পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।