করোনা মহামারির সময়ে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের টিকে থাকতে সংগ্রাম করতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। তারা শ্রমিকদের সহায়তার লক্ষ্যে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ :তৈরি পোশাকশিল্পে শোভন কাজের পরিস্থিতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এ অভিমত জানান। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলেসর এফএনভি প্রকল্পের আওতায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে তৈরি পোশাকশিল্পের শোভন কাজের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়।
লিখিত বক্তব্যে বিলেসর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নইমুল আহসান জুয়েল বলেন, এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ৮ নম্বর লক্ষ্য সবার জন্য শোভন কাজ নিশ্চিত করা। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্র উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। কিন্তু বছর বছর প্রবৃদ্ধির হার ঊর্ধ্বমুখী হলেও পোশাকশ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের হার নিম্নমুখী।
করোনার ভয়াবহ সংকটের সময় তৈরি পোশাকশিল্প খাতের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার শোচনীয়তা আরো প্রকটভাবে আমাদের সামনে আসে। লকডাউন চলাকালীন তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি না পাওয়া, সরকার ঘোষিত প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা, কারখানা খোলা ও বন্ধ রাখার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তের কারণে এই শিল্পের শ্রমিকেরা সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হয়। এছাড়া আবাসস্থলের সংকট, বিনা নোটিশে শ্রমিক ছাঁটাই, লে-অফ ঘোষণা এবং এই প্রাদুর্ভাবের সময় সামাজিক দূরত্বকে তুচ্ছ করে শ্রমঘন এলাকাগুলোতে বেতন আদায়ের জন্য শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সবকিছু মিলিয়ে এই মহামারির সময়েও তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
বিলেসর ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং বিলেসর ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল হক আমিনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল-আইবিসির সাধারণ সম্পাদক চায়না রহমান, ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল টঙ্গী-গাজীপুর ক্লাস্টার কমিটির সমন্বয়কারী সালাউদ্দিন স্বপন প্রমুখ।
