মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পান চাষ বেশ পুরোনো। এখানকার অনেক লোক এই পান চাষকেই বেছে নিয়েছে জীবিকার প্রধান মাধ্যম হিসেবে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অর্ধশতাধিক পরিবার। ভারীবর্ষণ ও বন্যার কারণে জেলার হরিরামপুর উপজেলার চার হেক্টর জমির পান বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ২৫ কৃষকের ৩৪টি বরজে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে অন্তত কয়েক লক্ষাধিক টাকার পান।
হরিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর, রামকৃষ্ণপুর ও কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ৫ দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে ৩৫ জন কৃষকের মোট ৪২টি পান বরজ রয়েছে। যার মধ্যে গোপীনাথপুর ইউনিয়নে এক হেক্টর জমিতে আটটি বরজ করেছেন আট কৃষক। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চার হেক্টর জমিতে ৩৪টি বরজ করেছেন ২৫ কৃষক এবং কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ০.২৫ হেক্টর জমিতে দুটি বরজ করেছেন দুই কৃষক। যার মধ্যে শুধু রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নেই ২৫ কৃষকের ৩৪টি বরজ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বকচর গ্রামের হোসেন আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তিনি ২৫ শতাংশ জায়গায় গয়াসী (মিষ্টি) পান চাষ করেছিলেন। এবারের ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় তার পুরো বরজ কাঠামোসহ ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে তার ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। যা ঠিক করতে তার প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হবে। তাই তিনি সরকারের কাছে অল্প সুদে সহজশর্তে ঋণের দাবি জানান। এছাড়া রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আরেক পানচাষি সুজন খান জানান, তার বড় ভাই আব্দুল মালেক খান এলাকার বড় পানচাষিদের মধ্যে এক জন। তার সাড়ে তিন বিঘা জমিতে তিনটি পান বরজ রয়েছে এবং তার দেখাদেখি তিনিও এবার পান চাষ করেছিলেন। কিন্তু এই বন্যায় তার বড় ভাইয়ের সবগুলো পান বরজ নষ্ট হয়ে প্রায় ৮/১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া তার নিজেরও প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রতিনিধি এসে তাদের নাম-ঠিকানা নিয়ে গেলেও এখনো কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল গফফার জানান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে। দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্তদের সবজি বীজ দেওয়া হবে।
