সিলেটে হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেড সংকট

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২০, ২২:২৯

সিলেটে তিনটি করোনা হাসপাতালকে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) বেড স্বল্পতার কারণে। আইসিইউতে চিকিত্সকেরও সংকট চলছে। করোনা ডেটিকেটেড সরকারি হাসপাতাল শহিদ শামসুদ্দিনের আইসিইউ বিভাগে কর্মরত আছেন মাত্র ১২ জন চিকিত্সক। এক জন চিকিত্সক সপ্তাহে ৭২-৮০ ঘণ্টা রোস্টার ডিউটি করেন। প্রয়োজনের তুলনায় সেখানকার আইসিইউতে চিকিত্সকের সংখ্যা অপ্রতুল। এ অবস্থায় রোগী ও দায়িত্বরত চিকিত্সকরা বেকায়দায় আছেন।

একটি সরকারি ও বাকি দুটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিত্সার জন্য সব মিলিয়ে ৫০টি আইসিইউ বেড রয়েছে। এর মধ্যে সরকারিভাবে করোনা ডেডিকেটেড শহিদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের ১০০ বেডের মধ্যে  ১৮টি আইসিইউ। আর বেসরকারি নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২০টি ও মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে রয়েছে ১২টি বেড।

শহিদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগ সূত্র জানায়, গত ঈদুল আজহার পর থেকে এ হাসপাতালে আইসিইউতে রোগীদের স্থান সংকুলান হচ্ছে না। প্রতিদিনই পূর্ণ থাকছে আইসিইউ বেড। কেউ মারা গেলে আইসিইউ বেড খালি হয়। তাই গুরুতর রোগীকে এ হাসপাতালে ভর্তি করা যাচ্ছে না।

শহিদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিচালিত হয় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাধ্যমে। এ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, সিলেটের করোনা হাসপাতালসমূহে সাধারণ রোগীদের চাপ কমলেও জটিল রোগীদের চাপ বেড়েছে। সরকারি হবার কারণে এ হাসপাতালে আইসিইউতে রোগীদের চাপ একটু বেশি—এই তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালেআইসিইউ বেডে ভর্তি রোগীর খরচ বেশি থাকায় চার জেলার রোগীদের ঝোঁক বেশি এখানে। কারণ সরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিত্সা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে।

শামসুদ্দিন হাসপাতালে অপ্রতুল জনবল । এ হাসপাতালে মাত্র পাঁচ জন কনসালট্যান্ট ও ছয় জন মেডিক্যাল অফিসারের পদ রয়েছে। অনেক চেষ্টার পর সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে ২৫ জন চিকিত্সককে পদায়ন করা হয়েছে এ হাসপাতালে। এ হাসপাতালে আইসিইউর জন্য সাত জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিত্সক ও উপজেলা পর্যায় থেকে আরো চার জন দক্ষ চিকিত্সককে পদায়ন করা হয়। মেডিসিনসহ অন্যান্য বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্টরা নিয়মিত করোনার আইসিইউ ইউনিট পরিদর্শন করেন। করোনা ইউনিটে চিকিত্সকরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। তবে অপ্রতুল লোকবলের কারণে রোগীরা অনেক সময় সংকটে পড়েন।

করোনার স্যাম্পল দিতে গিয়ে রোগীরা বিব্রত

শহিদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে প্রতিদিন করোনা রোগীদের স্যাম্পল নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালের বারান্দায় খোলা জায়গায় যেখানে  বসিয়ে স্যাম্পল নেওয়া হয় সেখানে কোনো বৈদ্যুতিক পাখা নেই। অত্যধিক গরমে তারা কষ্ট পান। উন্মুক্ত স্থানে নারী-পুরুষরা স্যাম্পল দিতে গিয়ে কেউ ভয় পান। আবার বিব্রত বোধও করেন স্যাম্পল দিতে আসা রোগীরা। তারা বলেন, সেখানে একটি পর্দা ও ফ্যানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের পরিচালক ডা. সুলতানা রাজিয়া সংবাদ মাধ্যমকে জানান, শামসুদ্দিনের আইসিইউতে পর্যাপ্ত চিকিত্সক পদায়ন করা হয়েছে। সেখানে আরো চিকিত্সক সংযুক্তির ব্যাপারে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার স্বাস্থ্যসচিবকে অনুরোধ করেছেন। 

নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. নাজমুল ইসলাম জানান, তাদের হাসপাতালে করোনা নির্ধারিত ২০টি আইসিইউ বেড সবসময় পূর্ণ থাকে। তিনি বলেন, আইসিইউ মিলিয়ে তাদের হাসপাতালে প্রতিদিন ৫০-৬০ জন করোনা রোগী ভর্তি থাকে। মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সমন্বয়ক ড. আখলাক আহমদ জানান, তাদেরও ১২টি আইসিইউ বেড পূর্ণ থাকে। তাদের হাসপাতালে গড়ে ৪০ জন করোনা রোগী ভর্তি থাকেন।

আক্রান্ত ১০ হাজার ৪৬১ জন 

সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্ত হয়ে আরো এক জন মারা গেছেন বৃহস্পতিবার। এ নিয়ে মোট মারা গেছেন ১৮৪ জন। মৃতদের মধ্যে সিলেট জেলার ১৩২ জন, সুনামগঞ্জ জেলার ২০ জন, হবিগঞ্জ জেলার ১২ জন ও মৌলভীবাজার জেলার ২০ জন। চার জেলায় নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ১১৬ জন। সুস্থ হয়েছেন ২৭৬ জন। চার জেলায় শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মোট ১০ হাজার ৪৬১ জন আক্রান্ত ছিলেন।