অসুস্থতার কারণে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তিনি। আবে এক বছর আগেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো এবং বেশকিছু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পরার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল। খবর বিবিসির
৬৫ বছর বয়সি আবে জানান, তার আলসারেটিভ কোলাইটিস রয়েছে এবং নতুন ওষুধ ব্যবহার করে তার চিকিত্সা চালিয়ে যেতে হবে। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিষয়ে আবের সরকার ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর পদের জন্য আবের উত্তরাধিকারী নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, আবে বলেছেন তিনি তার সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করবেন না।
জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা এনএইচকে এর আগে জানিয়েছিল যে আবে তার সরকারের জন্য সমস্যার কারণ হতে চান না। ২০১২ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া আবে সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে দায়িত্ব পালন করা জাপানি প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ২০০৭ সালেও প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি আলসারেটিভ কোলাইটিসে ভুগতে থাকায় হঠাত্ পদত্যাগ করেছিলেন। কৈশোর থেকেই এই রোগে ভুগছেন আবে। তার আগ্রাসি মুদ্রানীতির যা ‘আবেনমিকস’ হিসেবে পরিচিত মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চাঙ্গা করার পাশাপাশি কট্টর রক্ষণশীল এবং জাতীয়তাবাদী মতবাদের অনুসারী হিসেবেও আবের খ্যাতি আছে। তিনি জাপানের প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করেছেন, প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ও বাড়িয়েছেন।
কেন তার পদত্যাগকে ঘিরে উদ্বেগ?
এক সপ্তাহের মধ্যে দুইবার হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকেই আবের স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তার দল ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির কর্মকর্তারা এর আগে তার পদত্যাগের গুজব উড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেসময় তারা বলেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা ভালো। জাপানের আইন অনুযায়ী, আবে যদি তার দায়িত্ব পালনে অপারগ হতেন তাহলে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব নিতেন। অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী ঐ দায়িত্বে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকতে পারতেন।
আবে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে জাপানের অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী হবেন উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী তারো আসো। এরপরে তালিকায় আছেন প্রধান মন্ত্রীপরিষদ সচিব ইয়োশিহিদে সুগা। ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী চাইলেই নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান করতে না পারলেও দলের নতুন নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন চুক্তি এবং বাজেট প্রণয়নের মতো বিষয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অধিকার রাখেন।
পদত্যাগের পর কী হবে?
পদত্যাগের ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে তাদের দলের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য দলের ভেতরে ভোট হবে। এরপর নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য পার্লামেন্ট নির্বাচন হবে। ঐ নির্বাচনে বিজয়ী ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকবেন।
