চট্টগ্রাম কাস্টমস অবশেষে বন্দরে পড়ে থাকা বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক পণ্যসামগ্রী নিলাম ও ধ্বংসের ঘোষণা দিয়েছে। প্রায় ৩০ বছর পূর্বের কেমিক্যাল পণ্যসামগ্রীও বন্দরের নির্দিষ্ট ‘পি’ সেডে পড়ে আছে। লেবাননের বৈরুত বন্দরে কেমিক্যাল ডিপোতে বিস্ফোরণের পর চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে সবার দৃষ্টি পড়ে। চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে বন্দরের ভেতরে কেমিক্যাল পণ্যের গুদাম ‘পি’ সেড ও তত্সংলগ্ন এলাকার কেমিক্যাল দ্রব্যাদির তালিকা প্রস্তুত করেছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ঐ সকল আমদানি পণ্য খালাস না নেওয়ায়, নিলাম কিংবা ধ্বংস না করায় একপ্রকার অযত্নে-অবহেলায় পড়ে আছে। লেবাননে বিস্ফোরণের পর গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিও এ সব ঝুঁকিপূর্ণ দ্রব্যাদি দ্রুত সরিয়ে ফেলার সুপারিশ করেছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকেও বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ দ্রব্যাদি ধ্বংস করার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। সার্বিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম কাস্টমস চট্টগ্রাম বন্দরে থাকা সকল রাসায়নিক দ্রব্য ও পণ্যসামগ্রীর তালিকা প্রস্তুত করেছে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর নিলামযোগ্য পণ্যসামগ্রী নিলামের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানিকারকদের প্রত্যেককে ঐ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের আমদানিকৃত রাসায়নিক পণ্যসামগ্রী খালাস নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম ইত্তেফাককে জানান, রাসায়নিক দ্রব্যাদি আমদানির পর দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খালাস না নিলে নিলামে পাঠানো হবে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম কাস্টমস চট্টগ্রাম বন্দরের ‘পি’ সেডে থাকা ৬১টি লটের প্রায় ৪৫ হাজার কেজি রাসায়নিক দ্রব্যাদি নিলামের জন্য নির্দিষ্ট করেছে। এগুলোর মধ্যে বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ দ্রব্যাদি রয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া ৫টি লটের প্রায় ২ হাজার ৩০০ কেজি রাসায়নিক দ্রব্য ধ্বংসের জন্য তালিকাভুক্ত করেছে।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের গুদামে যত্রতত্রভাবে পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক দ্রব্যাদির ধরন, পরিমাণ কিংবা এদের ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করা যায়নি। এর মধ্যে ৪৮টি লটের ৪ লক্ষাধিক কেজির রাসায়নিক দ্রব্যাদি রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে খালাস না নেওয়ার কারণে এবং কিছু ক্ষেত্রে মামলা-মোকদ্দমা চলায় কিংবা নিলাম না হওয়ায় এগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখার ডেপুটি কমিশনার ফরিদ আল মামুন জানান, বন্দরের লোকদের সহায়তা নিয়েও রাসায়নিক দ্রব্যসমূহ শনাক্ত করা যায়নি। চট্টগ্রাম বন্দরের ‘পি’ সেডে থাকা বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্যাদির কয়েকটি দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপের মালিকানাধীন বলে জানা যায়। এরমধ্যে ওষুধ তৈরির রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। এছাড়া টেক্সটাইল, খাদ্যসামগ্রী প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিভিন্ন শিল্পকারখানায় ব্যবহূত ঘন অ্যাসিডসহ রাসায়নিক দ্রব্যাদি রাখার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার শৃঙ্খলা না থাকায় তা বিপদের কারণ হতে পারে। কারণ অনেক রাসায়নিক দ্রব্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় রাখতে হয়। যা এখানে নেই। আবার অনেকগুলো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখা না হলেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। অথচ চট্টগ্রাম বন্দরে তা খোলামেলা কিংবা কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ছাড়াই রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শেখ মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, রাসায়নিক দ্রব্যাদি রাখার সেডের সংস্কার করতে হবে। ইতিমধ্যে রাসায়নিক দ্রব্যাদি আলাদাভাবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় রাখার কাজ শুরু হয়েছে।
