শহরের শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে গ্রামের শিক্ষকদের পাঠদান

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২০, ২২:৩৯

গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনলাইন ক্লাস এখন শহরের শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ফলে শহরের শিক্ষার্থীরা তাদের নির্দিষ্ট স্কুলের শিক্ষকদের পাশাপাশি অনলাইনে অচেনা শিক্ষকদের ক্লাস করছে। অনলাইনে ক্লাস করার পর শিক্ষার্থীরা সেখানে তাদের মন্তব্য লিখছে। শিক্ষার্থীদের মন্তব্য পড়ে শিক্ষকরা আরো উত্সাহ পাচ্ছেন। করোনা মহামারিতে স্কুল বন্ধ থাকায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ফেসবুকে ‘ঘরে বসে শিখি’ পেজ খুলে সেখানে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু হয়। সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ শিক্ষক স্বেচ্ছায় স্বপ্রণোদিত হয়ে শিশু থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ের ক্লাস ভিডিও করে ঘরে বসে শিখি পেজে তুলে দেন। শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষে কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে সেখানে অভিভাবকদের মাধ্যমে অথবা নিজেরা মন্তব্য লিখে দেয়। মন্তব্যগুলো দেখে ঐ শিক্ষক ফিরতি ক্লাসে সে বিষয়ে আবারও আলোচনা করেন।

এরকম একজন শিক্ষক চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেবত্তর বাবলা বোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রুহুল আমিন। আলোকিত টিচার্স ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘করোনা ভাইরাস পরবর্তী শিক্ষা ব্যবস্থায় সমতা ফিরিয়ে আনতে করণীয়’ শীর্ষক ‘আইডিয়া চ্যালেঞ্জ’ প্রতিযোগিতায় নিজের উদ্ভাবনী ও আইডিয়া উপস্থাপন করে সারাদেশে ৩য় স্থান অর্জন করেন মো. রুহুল আমিন। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ ‘ঘরে বসে শিখি’তে নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি রাজশাহী ডিভিশনাল অনলাইন স্কুল, বাংলাদেশ অনলাইন প্রাইমারি স্কুল, পিইসিই অনলাইন প্রাইমারি স্কুল, হোমস অনলাইন প্রাইমারি স্কুল-শেরপুর পেজগুলোতে তিনি ক্লাস নেন।

রুহুল আমিন বলেন, অনলাইনে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থীরা আমার ক্লাস করছে।  এছাড়া কুমিল্লা, শেরপুর, বগুড়া, চট্টগ্রাম, খুলনা, মুন্সীগঞ্জসহ সারাদেশের শত শত শিক্ষার্থীও আমার ক্লাস করে উপকৃত হচ্ছে—এটাই আমার সার্থকতা।

তবে ক্লাস লেকচার ভিডিও করতে গিয়ে এসব শিক্ষককে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। নিজের অ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোনসেট দিয়ে ভিডিও করার সময় যথেষ্ট ঝামেলা হয়েছে। ফোনসেটটি স্থাপন করার জন্য তাদের কাছে ট্রাইপড ছিল না। বাঁশ বা কাঠের লাঠিতে মোবাইল ফোনসেট দড়ি দিয়ে বেঁধে ভিডিওর কাজ করা হয়। আবার লেকচার ভিডিও করার সময় বাইরে থেকে কোনো শব্দ যাতে না আসে—সেজন্য ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে সাউন্ডপ্রুফ করতে হয়। আবার ফ্যান ছাড়লে শোঁ শোঁ শব্দ আসে এ কারণে দরজা জানালা বন্ধ করে বদ্ধ রুমে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে লেকচার ভিডিও করা কষ্টসাধ্য কাজ। তারপরও ঘরে বসে শিখি পেজে সারাদেশ থেকে অনেক শিক্ষক ক্লাসের পড়া ভিডিও করে আপ করেছেন। এরকম প্রায় ১০০ শিক্ষকের অনলাইন ক্লাসে সারাদেশের কয়েক লাখ শিক্ষার্থী প্রতিদিন পড়াশুনা করছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির সমসাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল গনি মন্ডল বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাস করার পর যে বিষয়টি বুঝতে পারে না, সেটি মন্তব্যের ঘরে তারা লিখে দেয়। পরবর্তী ক্লাসে ঐ বিষয়টি আবার পড়ানো হয়। অন্য সময় তাদের হোমওয়ার্কের ছবি তুলে পাঠিয়ে দেয়। এভাবে একজন অচেনা ও দূরের শিক্ষার্থীর সঙ্গেও একজন শিক্ষকের গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠছে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুবাইতা বলে, আমি অনলাইনে অনেক স্যারের পড়াশুনা করছি। নতুন নতুন স্যারদের কাছে পড়তে ভালোই লাগে।