করোনা মহামারিতে দেশে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৫ লাখ সদস্য নতুন করে দরিদ্রে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে ৭২ শতাংশ চাকরি হারিয়েছেন। আর আয় রোজগার কমেছে সমতলের ৯২ ভাগের। ফলে অতি দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছেন ৬২ শতাংশ। যাদের দৈনিক আয় ১ দশমিক ৯০ ডলারের নিচে। সম্প্রতি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ইনডিজিনাস পিপলস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস’ (আইপিডিএস) এর জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। করোনাকালে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অবস্থা নিয়ে এই জরিপ চালায় সংগঠনটি।
জরিপের ফলাফলে বলা হয়, করোনা সংকট খুব দ্রুত ও মারাত্মক আকারে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর একটি বড় কারণ হলো, তারা দিনমজুরি, বিউটি পার্লার, রেডিমেড গার্মেন্ট, গৃহপরিচারিকা, সিকিউরিটি গার্ড, ড্রাইভার, সেলস পারসন ইত্যাদি নিম্ন আয়ের অনানুষ্ঠানিক খাতে যুক্ত। এই চাকরিজীবীদের ৭২ শতাংশ বেকার হয়েছেন। যারা চাকরিতে আছেন, তাদের ২০ শতাংশ আংশিক বেতন পাচ্ছেন। গারোদের মধ্যে এই সংকট বেশি। সরকারি বা বেসরকারি সংগঠনগুলোর ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতেও তাদের তেমন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বাংলাদেশের সমতলের ২৮ জেলায় ৩৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস। তাদের সংখ্যা ২০ লাখের ওপর। জরিপে তিনটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১ হাজার ২০৫টি পরিবারের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ ছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ২০ জন নেতা, কমিউনিটি লিডার, সাধারণ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও তাদের জন্য কাজ করছে এমন সংগঠনের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হয়। ব্যক্তি ও পরিবারের তথ্যগুলো ফোনকল অথবা ইমেইলের মাধ্যমে নেওয়া হয়। সরাসরি কথা বলেও তাদের অবস্থা জানার চেষ্টা করা হয়।
জরিপে অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৬০ ভাগের বেশি উত্তরদাতা বলেছেন, মহামারি সংকটের শুরুর দিকে তারা কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি। ৮০ ভাগ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার বলেছে, তাদের পরিবার সঠিক পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর গ্রামগুলোতে লকডাউনের প্রভাবে ভিন্নতা দেখা গেছে। খাসিয়াদের এলাকায় তারা নিজেরা সামাজিক লকডাউন করেছেন সফলভাবে। কিন্তু লকডাউন শ্রমজীবীদের উভয় সংকটে ফেলে দিয়েছিল।
আইপিডিএস-এর সভাপতি সঞ্জীব দ্রং বলেন, তাদের জন্য পৃথক কোনো মন্ত্রণালয় বা সরকারি সংস্থা না থাকায় সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে। তিনি সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য একটি পৃথক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় আদিবাসী নীতি গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিক সমাজ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি করোনায় নতুন দরিদ্রে পরিণত হওয়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্যে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করেন। সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় (বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী, মাতৃত্ব ভাতা ইত্যাদি) আরো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন।
