মুলাদী (বরিশাল) সংবাদদাতা
মুলাদীতে আড়িয়াল খাঁ ও জয়ন্তী নদীর ভাঙনে হুমকিতে পড়েছে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অব্যাহত নদীভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে চারটি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম। নদীর পানি বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে ব্যাপক ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মুলাদী সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামরুল আহসান জানান, আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে তার ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী চরলক্ষ্মীপুর ফাজিল মাদ্রাসা ও তেরচর ভাঙ্গারমোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হুমকিতে রয়েছে। নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু হাসানাত জাপান জানান, নদীভাঙনে ঘোষেরচর দাখিল মাদ্রাসা, কাচ্চিচর দাখিল মাদ্রাসা ও নাজিরপুর বন্দর ঝুঁকিতে রয়েছে। বাটামারা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম সিকদার জানান, আড়িয়াল খাঁ ও জয়ন্তী নদীর ভাঙনে তার ইউনিয়ন সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে এ বি আর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বাটামারা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সফিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছা হিমু মুন্সী জানান, মুলাদী উপজেলায় তার ইউনিয়ন সবচেয়ে জনবহুল এলাকা। জয়ন্তী নদীর ভাঙনে কয়েক হাজার পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে। নদীভাঙনে ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধুর দাফনকারী সাবেক যুগ্মসচিব মরহুম আ. কাদেরের কবরটিও বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে রয়েছে ব্রজমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সফিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। অতি দ্রুত নদী শাসন করে ভাঙন রোধ করা প্রয়োজন।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ২০১৯ সালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এবং বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনের এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে সফিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ব্রজমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষার জন্য ৫০ মিটার বেড়িবাঁধ ও বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু নদীর ব্যাপক ভাঙনে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে।
আড়িয়াল খাঁ ও জয়ন্তী নদীর ভাঙনে আট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হুমকিতে ও চার ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম অস্তিত্ব সংকটে থাকার কথা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুভ্রা দাস বলেন, নদীভাঙনের বিষয়ে বরিশাল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে মৌখিকভাবে এবং জেলা প্রশাসনের সভায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী শাসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।
এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু জানান, নদীভাঙনের বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। ভাঙন রোধে বাটামারা ও নাজিরপুর ইউনিয়নের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছে। চলতি সপ্তাহে কাজ শুরুর কথা রয়েছে।
