বনের হাতি চলাচলের পথে রোহিঙ্গা বসতি!

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২০, ২১:৪১

বিপন্ন বন্যপ্রাণী

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

হাতি চলাচলের পথে মানব-বসতি গড়ে ওঠায় পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে প্রাণিকুলের পাশাপাশি বাড়ছে জীবন ও সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতি। উখিয়ার বালুখালীর টিভি টাওয়ার এলাকায় রোহিঙ্গাদের গড়ে তোলা ঝুপড়ির ভীড়ে ‘বন্যহাতি চলাচলের পথ’ নির্দেশক একটি সাইনবোর্ড এখনো দৃশ্যমান। জানা যায়, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা এদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর বনাঞ্চল উজার করে যেখানে বন্যপ্রাণীর বসবাস ছিল সেখানে বসতি গড়ে তোলে। গত তিন বছরে উখিয়ায় বন্যহাতির আক্রমণে ১৩ জন রোহিঙ্গাসহ ২২ জন লোক মারা গেছে।

উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের দোছরী গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ হামজা জানান, হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের রাস্তা রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের দখলে চলে গেছে। এখন আগের মতো হাতির পাল দেখা যায় না।

বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, বনের হাতি বনে রাখতে সরকার কক্সবাজার দক্ষিণ বিভাগের আওতায় আলাদাভাবে ৩১০ একর “প্রটেক্টেড এরিয়া ওয়াইল্ড লাইফ করিডোর বনায়ন” নামে প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সব মিলিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৮ হাজার ১ একর পাহাড়, বন-জঙ্গল ধ্বংস করে তাদের বসতি গড়েছে রোহিঙ্গারা। তার মধ্যে উখিয়ার বুনো হাতির করিডোর ও আবাসস্থলও ছিল। উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী তরিকুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে ১৮৫ একর আয়তনের এলাকায় প্রোটেক্টেড করিডর গড়ে তোলার কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ১২৫ একরের কাজ চলছে, যা আগামী বছরের জুন মাস শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মধুরছড়া গ্রামের বাসিন্দা শামশুল আলম জানান, রোহিঙ্গারা নির্বিচারে গাছ-গাছালি কেটে ফেলে সেখানে আশ্রয়স্থল গড়ে তোলার কারণে বন্যহাতি ও বন্যপ্রাণী তাদের আবাসস্থল হারিয়ে এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি করছে। ফলে খাদ্যের সন্ধানে হাতি প্রায়ই হানা দিচ্ছে সেখানে। এরইমধ্যে গ্রামবাসীর বেশ কয়েকজন হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা গেছে। এ ঘটনায় গ্রামবাসীর আক্রমণে বেশ কয়েকটি হাতিও মারা গেছে।

রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের বাসিন্দা হাফেজ জালাল আহমদ বলেন, ‘আমরা বাধ্য পাহাড়ি এলাকায় হাতির আবাসস্থলে ঘর তৈরি করেছি। প্রায়ই বন্য হাতি এখানে হানা দেয়। গত কয়েকদিন আগেও একটি হাতি ক্যাম্পে এসে বেশ কয়েকটি ঝুঁপড়ি ভেঙে ফেলে। অন্য কোথাও জায়গা পেলে এসব রোহিঙ্গারা সেখানে চলে যাবে।

কক্সবাজারের বাসিন্দা পরিবেশ বিশেষজ্ঞ বিশ্বজিত সেন বলেন, ‘কক্সবাজার পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করা হাতির খাদ্য এবং আবাসস্থল বিপন্ন, তাই হাতি খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে।’

এ বিষয়ে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির বলেন, হাতিসহ বন্যপ্রাণী রক্ষায় ‘প্রটেক্টেড এরিয়া ওয়াইল্ড লাইফ করিডোর’ নামে একটি প্রকল্পের আওতায় বনায়নের কাজ চলছে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে, এই অঞ্চলে বন্যহাতির আবাস ও খাবারের কোনো অভাব হবে না। বুনো হাতি আর খাবারের সন্ধানে নির্দিষ্ট এলাকা ছেড়ে কোথাও যাবে না এবং এর মাধ্যমে প্রাণীগুলো রক্ষা পাবে।